খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হাতখালী ওয়ার্ডের ৩৬টি পরিবার ৫ হাজার করে টাকা দিয়ে এখনো সরকারি ঘর পাননি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব পরিবারকে ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেড় লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউপি সদস্য পঙ্কজ কুমার মোড়ল। প্রায় ১০ মাস হয়ে গেল আজও টাকা বা ঘর কোনোটাই দিতে পারেননি তিনি। শুধু আশ্বাস দিয়েই সময় পার করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ওই ওয়ার্ডের মানুষ।
গত ২৯ আগস্ট সরেজমিনে গেলে টাকা দিয়েছেন এমন কয়েকজন জানান, ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর বুলবুলের আঘাতে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার মধ্যে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হাজতখালী ওয়ার্ডও ছিল। সেই ঝড়ে ওই ওয়ার্ডের অনেকের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তরা ঘর পেতে স্থানীয় ২ নস্বর হাজতখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পঙ্কজ কুমার মোড়লের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন পঙ্কজ মোড়ল তাদের সরকারিভাবে (গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পে) ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারি ঘর পেতে কিছু খরচ আছে জানান পঙ্কজ। এই খরচ বাবদ ৩৬টি পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নেন তিনি।
এরপর চলতি বছরের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পানে উপজেলার ২১টি স্থানে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে প্রথম দিকে ৯টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি প্রবেশ করে। পরে আরও ৫টি স্থান ভেঙে যায়। এতে ৪২টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। তার মধ্যে ইউনিয়নের হাজতখালী গ্রামটি রয়েছে। বর্তমানে গ্রামটি জোয়ারের পানিতে সকাল-সন্ধ্যা তলিয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে অধিকাংশ বাসিন্দা কাশির হাটখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ঠাঁই নিয়েছেন। কিন্তু তিনি আজও ঘর দেননি। টাকা ফেরত চাইলে নানা রকম অজুহাত দিয়ে সময় পার করছেন।
হাজতখালী গ্রামের বাসিন্দা রেবেকা শেখ বলেন, ‘বুলবুলের কিছুদিন পর ৫ হাজার টাকা ঘরের জন্য দিয়েছি পঙ্কজ মেম্বারকে। এখন টাকা চাইলে বলেন, ‘এই ঘর এলো বলে’। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কিছুদিন আগে একটি এনজিও (বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা) ১৯ খানা টিন দিয়েছে। এখন সেই টিনের বিনিময়ে মেম্বার বলছেন ৫ হাজার টাকা পরিশোধ।’
আরেক বাসিন্দা বনমালী সরকার বলেন, ‘বুলবুল ঝড়ে সব হারালাম। আম্পানেও একই অবস্থা। সব হারিয়ে এখন বাঁধের ওপর বসবাস করছি। তবুও মেম্বারের ঘর বা টাকা দেওয়ার নাম নেই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে পঙ্কজ কুমার মোড়ল বলেন, এখানে দলাদলি আছে। তাই বিরোধী পক্ষ এসব বলছে।
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার নুরুল ইসলাম কম্পানি বলেন, অনেকে পঙ্কজের বিরুদ্ধের নানাভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের বলেছি, আমি এলাকার চেয়ারম্যান, আমাকে না জানিয়ে যখন দিয়েছ, তার দায়ভার নেব না।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ যারা টাকা দিয়েছে তারা কোনো প্রমাণপত্র আর যে নিয়েছে সে কোনো লিখিত দেয়নি। ফলে প্রমাণ ছাড়া প্রশাসনের কিছু করার থাকে না।
