শিক্ষার্থীরা মোবাইল গেমসে আসক্ত, অভিভাবকরা হতাশ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫০ পিএম

‘মার-মার ধর-ধর গুলি কর, গুলি কর, ওই গুলি কর, গ্রেনেড মার এইসব কতা হুইনা ঘুম থিকা লাফ দিয়া উঠছি। তহন রাইত আনুমান একটা-দেড়টা। উইঠাই হুনি গুলাগুলির শব্দ আর চিল্লানি। ভালামতে কান ফালাইয়া হুনি আমার ঘরের পাশের রুম থিকা এবা শব্দ আইতাছে। যাইয়া দেহি নাতিনের হাতে মোবাইল। নাতিন হবায় হাই স্কুলে পড়ে। তারে জিগাইলাম, “কিরে, কারে কছ গুলি করবার-মারবার।” নাতিন হাইসা দিয়া কয়, “দাদা তুমি বুঝবা না, মোবাইলে গেম খেলতাছি।” তারপর থিকা মেলা বুঝাইতাছি, মানেই না, হারাদিন মোবাইল টিপে আর এন্নাই কয়। কী যুগ আইলো!’

গত সোমবার সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ইছাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুহাম্মদের চায়ের দোকানে চা পান করার সময় ৬৫ বছর বয়সী আবদুর রহিমকে তার ভাষায় এসব কথা বলতে শোনা গেছে।

শিক্ষার্থীদের এমন ভয়ানক কথা আর সন্তানরা গেমস থেকে বিরত না থাকার অভিযোগ আর হতাশার সুর শুধু এই বৃদ্ধের নয়। জেলার অনেক অভিভাবকের মুখ থেকে কয়েক মাস ধরে এমন হতাশার কথা শোনা যাচ্ছে।

গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে এ ধরনের মারদাঙ্গা ভাষায় কথা বলে মোবাইল টিপতে দেখা যায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। ভয় আর কৌতূহল নিয়ে কাছে দিয়ে দেখা যায় তারা মোবাইলে গেমসে ব্যস্ত। খেলছে আর বলছে তাড়াতাড়ি গুলি কর, মাইরা ফালা। এমন ভয়ানক কথা আর দল বেঁধে মোবাইল চালানোর দৃৃশ্য শুধু কয়েক দিন ধরে নয়, গত কয়েক মাস ধরেই টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গার রাস্তাঘাট আর অলিগলিতে দেখা যাচ্ছে বলে জানালেন রূপালী ব্যাংক টাঙ্গাইল করপোরেট শাখাপ্রধান (এজিএম) শামছুল আলম।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাই অলস সময় কাটাতে ইন্টারনেটের বিভিন্ন গেমসে ঝুঁকছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। জেলার একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, উঠতি বয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণরা মোবাইল গেমসের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা পড়ালেখা ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা মোবাইলের গেমসে আসক্ত হচ্ছে।

ফ্রি-ফায়ার গেমসে অনুরাগী জুয়েল জানায়, বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন সে আসক্ত হয়ে গেছে। এখন খেলা ছেড়ে দেওয়া তার কাছে অসম্ভব বলে মনে হয়। কলেজ শিক্ষার্থী হেলাল জানায়, ফ্রি-ফায়ার গেমস তার নেশা। মাঝেমধ্যে নেট সমস্যায় এ গেমস খেলতে না পারলে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয় তার।

এ ব্যাপারে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট গ্রুপ েেগমস মহামারী আকার ধারণ করেছে।

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম সজীব বলেন, ইদানীং স্কুল ও কলেজপড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীকে চোখের রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসতে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দেওয়া থেকে অভিভাবকরা বিরত থাকলে নানা রোগ থেকে তারা অনেকটা রেহাই পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত