শার্শায় আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছে ২ হাজার পরিবার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫০ পিএম

যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন ইউনিয়নে দুই হাজার পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি।

শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, নিরাপদ পানি পানের সুযোগ তৈরি করতে এ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানি সরবরাহ কার্যক্রমে সহায়তা করেছে ইউনিসেফ। তিনি বলেন, শার্শা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়। এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকটিতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তোলা হয়। এ পানি আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত।

শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, এলাকাটি আর্সেনিক দূষিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পেতে পারে সেজন্যই সরকারিভাবে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। বিভাগীয় শহর বা মহানগরীর মানুষের কাছে সাপ্লাইয়ের পানি সম্পর্কে একটা ধারণা থাকলেও মফস্বল এলাকায় এ ধারণা একেবারেই ছিল না। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কিছুটা অসুবিধা হলেও এখন মানুষ সচেতন হয়েছে, সুফল পেতে শুরু করেছে। চাহিদাও বেড়েছে।

শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় দুটি ধাপে মাসিক ১৫০ অথবা ১৯০ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি পরিবারকে এ পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ টাকা দিয়েই প্রকল্পের সব ব্যয় মেটানো ও তদারককারীদের বেতনভাতা দেওয়া হয় বলে জানান সোহরাব। শার্শার কজিরবেড় গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মনির হোসেন, নজরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, আলী হোসেন, শফিকুল রহমানের মতো অন্তত ১৫০ পরিবার এ বিশুদ্ধ আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করছেন। ওই গ্রামের সেলিম রেজা বলেন, দিন দুবার লাইনে পানি আসে। সকাল ৭টায় একবার, দুপুর ২টায় আসে দ্বিতীয়বার। এতেই আমাদের চাহিদা মিটে যায়।

নাভারন বাজারের রস্তম আলী বলেন, এলাকার মানুষের সুপেয় পানির খুব অভাব ছিল। এখন আমরা ভালো আছি। আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত পানি পাচ্ছি। নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যাপক জিন্নাত আলী বলেন, ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি মানুষের নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত