জাতীয় নিরাপত্তা নস্যাতে প্ররোচনা দিয়েছেন মারিয়া কোলেস্নিকোভা— এমন অভিযোগ এনেছে বেলারুশ সরকার। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় বিবিসি।
বেলারুশে চলমান বিক্ষোভের শুরুতে তিনজন নারী নেতৃত্ব দেন। তাদের মধ্যে দুজন দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন, বাকি আছেন কোলেস্নিকোভা। সম্প্রতি তাকে দেশ থেকে বের করতে দিতে চাইলে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে প্রতিহত করেন।
সর্বশেষ পাঁচ রবিবার বেলারুশের সাজানো নির্বাচনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে লাখখানেক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
যদিও প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো দাবি করছেন ৯ আগস্টে নির্বাচনে তিনি নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সেতলানা তিখনভস্কায়াক নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন। এর অল্প সময় পরই তাকে লিথুনিয়ায় পালাতে বাধ্য করা হয়। বিক্ষোভের সামনে থাকা ওপর নেত্রী ভেরোনিকা তসেপকালোও দেশ ছেড়েছেন ইতিমধ্যে।
এ দিকে সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও লুকাশেঙ্কো মুখোমুখি বৈঠক করে। সেখানে বেলারুশের জন্য দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়।
গত সপ্তাহে মুখোশধারীরা ৩৮ বছরের কোলেস্নিকোভাকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে ইউক্রেন সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি পাসপোর্ট ছিঁড়ে গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিয়ে বাধা দেন। এই নেত্রীর আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোলেস্নিকোভাকে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে না গেলে বাধ্য করা হবে। তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ডের হুমকিও দেওয়া হয়।
এরপরই বুধবার তদন্ত কমিটি জানায়, মিডিয়া ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বেলারুশের জাতীয় নিরাপত্তা নস্যাতের চেষ্টার জন্য সোমবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। এর মাত্র দুই বছর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। তাকে বলা হয় ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার।
৯ আগস্ট নির্বাচনে অভাবনীয় ব্যবধানে জিতে ফের ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। তবে তার বিরুদ্ধে ভোটচুরি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে রাস্তায় নেমে আসে বেলারুশের মানুষ।
একের পর এক বিক্ষোভে ভিত নড়ে উঠলেও ক্ষমতায় অটল লুকাশেঙ্কো। রাশিয়ার সরাসরি সমর্থনে বিক্ষোভ দমনেও সচেষ্ট তিনি।
