করোনাকালে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গানের প্রতিযোগিতা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:২৬ পিএম

করোনাভাইরাসের দিনগুলোতে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ডরমিটরিতে রীতিমতো বন্দি অবস্থায় দিন কাটানো বাংলাদেশি শ্রমিকেরা অনলাইনে গানের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এই প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে।

দেশটির মিডিয়াক্রপের মালিকানাধীন ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ‘টুডে’ শুক্রবার জানিয়েছে, প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করেছেন বাংলাদেশি প্রবাসী বিল্লাল খান। গত জুলাইয়ে ‘ওভারসিজ ফরেইন ওয়ার্কার্স সিঙ্গাপুর’ নামের একটি ফেইসবুক পেজ খোলার পর এই প্রতিযোগিতার ভাবনা তার মাথায় আসে। পেজটির মাধ্যমে ৪৫ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে করোনার সময় প্রবাসী শ্রমিকদের সাহায্য করেছেন তিনি।

বিল্লালের সঙ্গে শনিবার দুপুরে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কুমিল্লার মুরাদনগর থানার কোম্পানীগঞ্জের ছেলে বিল্লাল জানান, পেজের ফলোয়ার ৬ হাজার হওয়ার পর অনেকেই তাকে প্রবাসীদের জন্য ‘কিছু একটা’ আয়োজনের অনুরোধ করেন।

‘অনেকেই আমাকে মেসেজে বলেন ডরমিটরিতে থাকা মানুষদের জন্য বিনোদনমূলক কিছু একটা করার। এর মধ্যে কেউ কেউ গানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।’

একাধিক প্রবাসী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করা বিল্লাল এরপর এক মাস বসে পরিকল্পনা করেন। অর্থ জোগাড় করতে নেটওয়ার্ক বাড়ান। পেয়ে যান ছোটখাটো স্পনসর। বাংলাদেশের পেশাদার শিল্পীদের বিচারক হিসেবে থাকতেও রাজি করান।

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বিল্লাল দারুণ সাড়া পেয়েছেন। তার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে ১৮৪ জন শ্রমিক নিবন্ধন করেছেন। কারো থেকেই অর্থ নেয়া হয়নি।

প্রতিযোগীদের গানের ভিডিও পাঠাতে হয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশি বিচারকেরা সেরা ১০ জন নির্বাচন করবেন।

এই দশজনকে নিয়ে যে ফাইনাল রাউন্ড হবে, সেটি ফেইসবুকে লাইভ দেখানো হবে। সেই তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চ্যাম্পিয়ন গায়ক পাবেন বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩১ হাজার টাকার মতো।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়াদের একজন হোসেন মোঃ কাজী মোজাম্মেল। এমন হতাশার দিনে এই প্রতিযোগিতায় তিনি ‘সুখ’ খুঁজছেন, ‘অনেকে বাড়ি ফিরতে চেয়েও পারছেন না। সবাই হতাশ। মানসিক চাপ কমাতে এই প্রতিযোগিতা আমাদের সাহায্য করবে।’

নিজেকে ‘বাথরুম সিঙ্গার’ হিসেবে পরিচয় দেয়া কাজী ফাইনালে গাইবেন স্ত্রীর নির্বাচন করা গান।

পবিত্র সূত্রধর নামের আরেকজন গাইবেন বাংলাদেশি ফোক গান। ঠিক কোনটি গাইবেন, সেটি খোলাসা না করলেও জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দুঃখ নিয়ে লেখা একটি গান গাইবেন।

‘আমাদের সবারই এখন মন ভালো নেই। সবাইকে একা দিন কাটাতে হচ্ছে। স্ত্রী, মা-বাবা, পরিবারকে সবাই মিস করছি। এই গান আমাদের কিছুটা হলেও কষ্ট দূর করবে।’

পবিত্র এবং মোজাম্মেলের দুজনের স্ত্রীই বাংলাদেশে থাকেন।

পবিত্র প্রতিদিন ঘণ্টা দুই সময় ধরে রেওয়াজ করছেন। গান গেয়ে শোনাচ্ছেন টাঙ্গাইলে থাকা ৫৫ বছর বয়সী বাবাকে। তার বাবা একজন ফোক গায়ক।

রকি সাহা নামের আরেকজন পড়েছেন ‘লজ্জায়’। ১৪ জনের সঙ্গে থাকা ডরমিটরিতে সবার সামনে গান গাইতে পারছেন না। তাই কাজে গিয়ে রেওয়াজ করতে হয় তাকে!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত