থানায় এনে চাঁদা দাবী ও নির্যাতনে ওসির বিরুদ্ধে মামলা যুবলীগ কর্মীর

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৫ পিএম

দুর্গাপুর থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে চাঁদা ও নির্যাতনের অভিযোগে নেত্রকোনার দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করেছেন এক যুবলীগ কর্মী। মামলার বাদী বাকলজোড়া ইউনিয়নের গুজিরকোনা গ্রামের মৃত আলাল তালুকদারের ছেলে ও ওই ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী আলম তালূকদার।

মামলাটি আমলে নিয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে মামলা বাদীপক্ষে আইনজীবি নাসির উদ্দিন মাহবুব দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালত বাদীর জবানবন্দী নিয়েছেন এবং আদালত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঘটনার এক মাস সাতদিন পর দায়ের করা মামলায় দুর্গাপুর থানায় সাবেক কর্মরত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজন হলেন, ওসি মো. মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম ও কনেষ্টবল জুয়েল রানা।

জানা যায়, ১০ আগস্ট কাইয়ুম আহমেদের পরিবারের অভিযোগে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের মাছমহাল ইয়াকুব তালুকদারের বাসা থেকে কাইয়ুমকে উদ্ধার করে পুলিশ। তখন সেখান থেকে আলম তালুকদারসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

গত ১৪ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনের শেষে ‘ঘটনার রাতে কাইয়ুমকে উদ্ধারের সময় কাকে কাকে থানায় আনা হয়েছিল ও পরে কি ঘটনা ঘটেছিল’ দেশ রূপান্তরের এমন প্রশ্নে সেদিন কাইয়ুম বলেছিলেন, আমাকে উদ্ধার করে আলম তালুকদারসহ ইমন ও আকাশকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ওসি মিজান জানতে চাইলে ঘটনা খুলে বলি। পরে আলম তালুকদারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে লুঙ্গি পড়ে আমি নাকি রামদা নিয়ে আকাশকে মারতে এসেছিলাম। ওসি সিসি টিভির ফুটেজে দেখে ওই সময় আমার পরনে প্যান্ট ও কফি কালারের গেঞ্জি ছিল। এনিয়ে ওসি আলমকে ধমকি দিয়ে মার দেয়ার ভয় দেখালে আলম তালুকদার ঘটনা খুলে বলে, আমাকে মেরে রামদা দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। মারপিটের সময় পড়নে কফি কালারের গেঞ্জি ছিড়ে গেলে আমাকে আকাশের গেঞ্জি পরায়। আমার কফি কালারের ছেড়া গেঞ্জিটি থানায় আছে।

ওই রাতেই বাদী হয়ে আলম তালুকদার, আকাশ তালুকদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন কাইয়ুম জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার ওসির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মাছমহাল থেকে এসআই হালিম ও কনস্টেবল জুয়েল মামলার বাদী বালু ব্যবসায়ী আলম তালুকদারকে ধরে ওসি মিজানুর রহমানের কক্ষে নিয়ে আসে। ওসি মিজান তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাত দেড়টার দিকে রোল দিয়ে হাতে, পায়ে, উরুতে, পিঠে আঘাত করে। একপর্যায়ে দেয়ালে ধাক্কা দিলে আলম তালুকদার মাথায় আঘাত পান। তাকে রাত দেড়টার দিকে দুর্গাপুর হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সারাদিন চিকিৎসা শেষে ১১ আগস্ট রাতে এসআই হালিম কয়েকটি কাগজে আলমের স্বাক্ষর নিয়ে আদালতে চালান করেন। রাতে জামিনে আলম তালুকদার মুক্ত হন ।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার সাবেক ওসি মো. মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসীর কাছে মামলাটি অবগতির বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ মর্যাদা বা এর উপরের ব্যক্তিকে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত