থানায় চুরির অভিযোগ করার মণিপুরী বৃদ্ধাকে মারপিট

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১০ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর ইউপির কাটাবিল গ্রামে সংখ্যালঘু মণিপুরী বৃদ্ধা চাউবিহান দেবী (৬০) এর ঘর থেকে গত আগস্ট মাসে ৬ বস্তা ধান চুরি হলে তিনি থানায় অভিযোগ করে সন্দেহভাজনদের নাম জানালে তাদের আটক করে ধান উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

এ ঘটনার জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মণিপুরী বৃদ্ধা চাউবিহান দেবীকে সবজি চুরির অপবাদে আটকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেন একই গ্রামের উমেদ মিয়া (৫০)।

এ ঘটনায় রোববার কমলগঞ্জ থানায় আহত বৃদ্ধার পক্ষে কমলগঞ্জ থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। আহত মণিপুরী বৃদ্ধা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

থানায় করা ডায়েরী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রাতে কাটাবিল গ্রামের মণিপুরী বৃদ্ধা চাউবিহান দেবীর বাড়ি থেকে ৬ বস্থা ধান চুরি হয়েছিল। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবহিত করে কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেছিলেন বৃদ্ধা চাউবিহান দেবী। পুলিশ তিনজনকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করলে দুইজন জামিন নিলেও একজনের জামিন হয়নি। কারাগারে থাকা সেই আসামী কাটাবিল গ্রামের উমেদ মিয়ার ভাতিজা বলে এ ঘটনার জের ধরে উমেদ মিয়া শনিবার সন্ধ্যায় মণিপুরী বৃদ্ধা চাউবিহান দেবীকে ডেকে নিয়ে তাকে কাকরোল চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করেন। এলাকাবাসী চাউবিহান দেবীকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

সোমবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা চাউবিহান দেবী বলেন, মূলত আগষ্ট মাসে তার ঘরের ধান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার তাকে কাকরোল চোর অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে উমেদ মিয়া ও তার স্ত্রী মিলে মারপিট করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, বৃদ্ধা চাউবিহান দেবী বেশ জখম নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি এখন চিকিৎসাধীন আছেন।

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, বিষয়টি সামাজিকভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে অভিযুক্ত কাটাবিল গ্রামের উমেদ মিয়া বলেন, ধান চুরির অভিযোগে কারাগারে থাকা আসামী শাকিল মিয়া তার ভাতিজা হলেও তাদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। তাছাড়া ধান চুরির ঘটনার সাথে শনিবারের ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। শনিবার চাউবিহান দেবী তার খেতের কাকরোল চুরি করে নেওয়ায় তাকে ডেকে এনে শাসিয়েছিলেন। তিনি চাউবিহান দেবীকে মারপিট করেননি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত