সাটুরিয়ায় সরকারি ঘর দিতে টাকা নিলেন চেয়ারম্যান

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৯ পিএম

সরকারি ‘দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ’ প্রকল্পের আওতাধীন সারা দেশে বিনামূল্যে বাসগৃহ প্রদানের কথা থাকলেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকবার তাগাদার পরও নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই পরিবারের দাবি, প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাদের কাছে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করেন চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ। সেই টাকা না দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাইদ ইউনিয়নে মোট চারটি বাসগৃহ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০ ফুট বাই ১০ ফুট মাপের দুটি ঘর, একটি ল্যাটট্রিন, একটি রান্নাঘর ও বারান্দাসহ একটি বাসগৃহের নির্মাণ খরচ বাবদ ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

স্থানীয় আগ সাভার গ্রামের প্রবাসী মো. শাহিনুর হকের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আমার স্বামীর নামে ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি। কাজ শুরু করে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন হারুন চেয়ারম্যান। টাকা না দিলে কাজ শেষ করবেন না বলেও জানান তিনি। আমার স্বামী বিদেশে থাকলেও করোনার কারণে সেখানে কোনো কাজ নেই। উল্টো মাসে মাসে দেশ থেকে টাকা পাঠাতে হয়। দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে আমার বাবার বাড়িতে উঠেছি। বাবা-ভাইদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। কিন্তু বাকি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই। তাই ঘরের নির্মাণকাজও শেষ হয় না।’

এদিকে মো. শাহিনুরের বরাদ্দকৃত বাসগৃহের নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করতে না পারায় হারুন চেয়ারম্যানকে তিন দফায় কারণ দর্শানো নোটিন দেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। নোটিসের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান। গত ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এ ছাড়া উত্তর বরাইদ গ্রামের নজরুল ইসলাম, আগ সাভার গ্রামের মোহিরন বেগমের বাসগৃহ নির্মাণকাজ শেষ না করার জন্যও একই রকম নোটিস দেওয়া হয়। 

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রনজু বলেন, ‘বাসগৃহ বরাদ্দ বাবদ কোনো টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়া চেয়ারম্যানকে তিন দফায় নোটিস দেওয়া হয়েছে।’

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুর আলম বলেন, ‘চেয়ারম্যানের অর্থ আদায়ের অভিযোগটি প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ। তিনি বলেন, ‘বন্যার কারণে শাহিনুরের ঘরের ভিটায় মাটি ভরাট করতে পারিনি। ফলে নির্মাণকাজ শেষ করা যাচ্ছে না। দ্রুত মাটি ভরাট করে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে। সামনে নির্বাচন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এসব কথা ছড়াচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত