জনবহুল একটি দেশ হয়েও করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক বলেছেন, বলা হয়েছিল সেপ্টেম্বরে আমাদের দেশে হাজার হাজার রোগী মারা যাবে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য তেমন কিছুই হয়নি। আমাদের দেশে করোনা রোগীর সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী সেবা পায়নি এমন কোনো নজর নেই।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন বেসমেন্টে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢামেক হাসপাতালে উন্নত ও সম্প্রসারিত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ২৩টি ইউনিট ও বেশ কয়েকটি সেবামূলক কাজের উদ্বোধন করা হয়।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক বলেন, ঢাক মেডিকেল ঐতিহ্যবাহী একটি হাসপাতাল। দেশের অন্যতম ও শ্রেষ্ঠ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এটি। আজকে এখানে ২৩টি ইউনিট একসঙ্গে উদ্বোধন করতে সক্ষম হয়েছি। আর যারা এর পেছনে পরিশ্রম করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এই ইউনিটগুলোর জন্য হাসপাতালটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে, এর ফলে আরও ভালো সেবা দিতে পারবে।
মন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য দেশে ১৫-২০ হাজার করোনা বেড করা হয়েছিল, এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি বেড ছিল ঢাকা মেডিকেলে। এবং এখানে সেবাও বেশি পেয়েছে রোগীরা। বাইরের দেশের মতো কোনো রোগীকে তাঁবুতে থাকতে হয়নি। আমার দেশের চিকিৎসা প্রটোকল বিশ্বমানের হওয়ায় হাজার হাজার লোক বেঁচে গেছে। তাই চিকিৎসক, নার্স সহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সবার প্রচেষ্টার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভ্যাকসিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। যে দেশের ভ্যাকসিন সব চেয়ে ভালো ও কার্যকর হবে আমরা সেই দেশ থেকেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করব। সঠিক সময়ে সঠিক ভ্যাকসিন যাতে পাই সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, ২য় ধাপে অনেক দেশে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের দেশে অনেক লোক এখন স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাফেরা করছে। কিন্তু আমাদের সজাগ থাকতে হবে। শীতকালীন সময়ে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। এই সময় বেশি সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। এতে করোনা ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লকডাইন একটি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আবার লকডাউনের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি যেখানে আছে সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
