ব্রুনাইয়ের মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা শেখ আমিনুর রহমান হিমুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাব।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে হিমুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি লাইসেন্স করা পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তার দুই সহযোগী নূর আলম ও বাবলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর টিকাটুলির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাকিবুল হাসান এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হিমু মানব পাচারচক্রের আরেক হোতা মেহেদী হাসান বিজন ও আবদুল্লাহ আল মামুন অপুর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। এই চক্রের আরও কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ব্রুনাইয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে অন্তত ৪০০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন হিমু। তিনি গত বছর মেহেদী হাসান বিজনের কোম্পানির নামে ভুয়া ডিমান্ড লেটার সংগ্রহ করে ৬০ জনকে ব্রুনাইয়ে পাঠান। তারা সেখানে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে নিজ খরচে দেশে ফিরে আসেন। হিমুর নিজের কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তিনি মেহেদীর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানব পাচার করতেন। নিজেকে তিনি এমপি হিসেবে পরিচয় দিতেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ব্রুনাইয়ে মানব পাচারের ঘটনায় অসংখ্য ভুক্তভোগী র্যাব-৩ কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, চক্রের অন্যতম হোতা মেহেদী ও আবদুল্লাহ আল মামুনের অন্যতম সহযোগী হলেন হিমু। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। মেহেদীর নামে বাংলাদেশে ২০টি মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোথাও আত্মগোপন করে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর র্যাবের একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশি প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ব্রুনাইয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের বড় অংশ মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে সেখানে যান। ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি মালিকানায় প্রায় তিন হাজার কোম্পানি নিবন্ধিত, যার অধিকাংশই নামসর্বস্ব। মানব পাচারকারীরা ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্রুনাই থেকে কর্মসংস্থানের ভিসা সংগ্রহ করে। তারপর দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসব ভিসা বিক্রি করে থাকে। দালালদের মাধ্যমে বিদেশে চাকরির লোভে পড়ে কেউ ১ লাখ, কেউ ২ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন।
