ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হতেই খানাখন্দক

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০০ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দকের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

এদিকে কর্তৃপক্ষ সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এ সকল স্থানের যেকোনো জায়গায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কটি চার লেনে নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকারও বেশি।

এ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৩ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়ে কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। চার প্যাকেজে কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-৪ নম্বর পড়েছে এলেঙ্গা-টাঙ্গাইলের ১০ কিলোমিটার। দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিসিএলের এ অংশের নির্মাণকাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড।

কাজের চুক্তিমূল্য ৩৫৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে টাঙ্গাইল থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস ইন্টারসেকশন পর্যন্ত আরও ১৯ কিলোমিটার নির্মাণ করছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার এইচসিএম ইঞ্জিনিয়ারিং। তৃতীয় প্যাকেজে দুল্লামারী রোড থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ২২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান ও বাংলাদেশের মীর আখতার।

বর্তমানে ৮৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কিন্তু এ বছর এপ্রিল থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। অতিবৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় গিয়ে এই খানাখন্দক দেখা গেছে। এসব খানাখন্দের মধ্যদিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানা যায়।

গোড়াই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বাবুল শিকদার বলেন, চার লেন সড়কের রাস্তা হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলছে।

ধলেশ্বরি পরিবহনের চালক আব্দুল কাদের বলেন, সুন্দর রাস্তায় আরামদায়ক চলাচলের পরিবর্তে চলছে ভোগান্তি এবং ঝুঁকি। নিত্যদিনের এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের সেকশন ২ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম বলেন, এ বছরের বৃষ্টিতে মহাসড়কের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তাছাড়া যেহেতু সড়কটি নির্মাণাধীন তাই ছোটখাট গর্ত সাথে সাথেই সংস্কার হচ্ছে। নভেম্বর থেকে শুরু হবে মহাসড়কের কার্পেটিং কাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত