শিবসেনা আগেই বিজেপির সঙ্গ ছেড়েছে। এবার নরেন্দ্র মোদি সরকারের কৃষি বিলের প্রতিবাদে ভারতজোড়া বিক্ষোভের মধ্যেই সঙ্গ ত্যাগ করল এনডিএ-তে তাদের সবচেয়ে পুরোনো সঙ্গী শিরোমণি অকালি দল।
কৃষি বিলের বিরোধিতা করে কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন অকালি দলের মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল। তার পর থেকেই দলটি এনডিএ-তে থাকবে কি-না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়।
অকালি বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন করবে বলে শোনা যায়। কিন্তু পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় প্রবল কৃষি বিক্ষোভ দলের ভেতরে চাপ বাড়তে থাকে। তার মধ্যেই শনিবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিহ ফের অকালি দলকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘বিজেপি বড় করপোরেট হাউসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাঞ্জাবের কৃষকদের বঞ্চিত করছে। অকালি দল কিসের স্বার্থে এখনো সেই সরকারের শরিক হয়ে আছে?’’
এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দলের কোর কমিটির বৈঠক সেরে অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল জানিয়ে দেন, দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তারা এনডিএ জোট ছাড়ছেন।
৩ কোটি পাঞ্জাবির যন্ত্রণা ও আবেগকে সম্মান জানাচ্ছে না মোদী সরকার, অভিযোগ সুখবীর-পত্নী হরসিমরতের। যদিও অকালি দলের প্রাণপুরুষ প্রকাশ সিং বাদল বারবার বলেছেন, আমার জীবদ্দশায় বিজেপি-অকালি জোট ভাঙবে না।
তবে ভারতীয় গণমাধ্যম আরও বলছে, অকালির এই এনডিএ-জোট ছাড়ার পেছনে কারণ শুধু কৃষি বিল নিয়ে অসন্তোষ নয়। অকালি প্রভাবিত এলাকায় বিজেপির সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা, দলে সুখবীর-বিরোধীদের সঙ্গে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো এবং বিজেপি যেভাবে দলের শিখ নেতা তৈরির চেষ্টা করছিল, তাকে ভালোভাবে নেননি সুখবীররা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অকালির বিদায়কে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি। দলের সংগঠনের নেতা বি এল সন্তোষ বলেন, ‘‘মোদির নেতৃত্বে কৃষকদের উন্নতির জন্য বিজেপিই কাজ করে দেখাচ্ছে। সে জন্য মোদির ওপরে কৃষকদের বিপুল আস্থা রয়েছে।’’
যদিও কৃষি বিক্ষোভ সেই ‘আস্থা’র প্রমাণ দিচ্ছে না। শনিবারও পাঞ্জাবে কৃষকদের ‘রেল রোকো’ চলে পুরোদমে। ‘কিষান মজদুর সংঘর্ষ কমিটি’র ডাকে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে।
