বেলারুশে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভের মধ্যে দেশ ছাড়লেন নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ।
বিবিসি জানায়, বেলারুশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী আলেক্সিয়েভিচ দেশটির বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের একজন। সোমবার তিনি জার্মানির উদ্দেশে বেলারুশ ছাড়েন।
আগের দিন প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ৫০তম দিন পার করে বেলারুশবাসী। এদিনও লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হয় দেশটি জুড়ে।
বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠে। গ্রেপ্তার করা হয় ৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে।
বিক্ষোভে নারীদের বিপুল উপস্থিতিও দেখা গেছে। লুকাশেঙ্কোকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়েন লেখক ও সাংবাদিক আলেক্সিয়েভিচ। তবে তার সহযোগীরা দাবি করেছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি জার্মানি গেছেন।
সরকারবিরোধী কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের তিনিই একমাত্র শীর্ষ নেতা ছিলেন, যিনি এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের শিকার হননি।
আলেক্সিয়েভিচের সহযোগী তাতিয়ানা তিউরিনা বলেন, ‘চিকিৎসাসহ অন্যান্য কাজে তিনি দেশ ছেড়েছেন। তবে তিনি ফিরে আসবেন।’
সুইডেনে বইমেলা এবং সিসিলিতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আলেক্সিয়েভিচ।
তাতিয়ানা বলেন, ‘অবশ্যই তার ফিরে আসা নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে।’
৯ আগস্ট নির্বাচনে অভাবনীয় ব্যবধানে জিতে ফের ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। তবে তার বিরুদ্ধে ভোটচুরি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ শুরু করে বেলারুশের মানুষ।
লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে লক্ষাধিক মানুষের একাধিক সমাবেশে কেঁপে উঠে মিনস্ক। নিরাপত্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ ও নির্বিচারে গ্রেপ্তার চালালেও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে বেলারুশবাসী।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সেতলানা তিখনভস্কায়াক নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন। এর অল্প সময় পরই তাকে লিথুনিয়ায় পালাতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে লিথুয়ানিয়ায় দুই দিনের সফরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ মঙ্গলবার সেতলানার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছের।
বিক্ষোভের সামনে থাকা ওপর নেত্রী ভেরোনিকা তসেপকালোও দেশ ছেড়েছেন ইতিমধ্যে। তবে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া আরেক নারী মারিয়া কোলেস্নিকোভাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। এর মাত্র দুই বছর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। তাকে বলা হয় ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার।
একের পর এক বিক্ষোভে ভিত নড়ে উঠলেও ক্ষমতায় অটল লুকাশেঙ্কো। রাশিয়ার সরাসরি সমর্থনে বিক্ষোভ দমনেও সচেষ্ট তিনি।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে বুধবারে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ষষ্ঠবারের মতো প্রেসিডেন্টের শপথ নেন লুকাশেঙ্কো।
তবে যুক্তরাষ্ট্রস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা লুকাশেঙ্কোকে বেলারুশের বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।
