ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে ছাত্র-যুব সমাজের একাংশ রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করে দেশের ২১ জন নাগরিক বলেছেন, এই প্রবণতা মোকাবিলায় ক্ষমতাবান রাজনৈতিক সংগঠন বা ব্যক্তি তাদের দায় কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।
বুধবার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে তারা এ কথা বলেন।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ডা. সারোয়ার আলী, ফেরদৌসী মজুমদার, আলী যাকের, মামুনুর রশীদ, নির্মলেন্দু গুন, মফিদুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজি, মোহাম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, অধ্যাপক শফি আহমদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ, মিনু হক, গোলাম কুদ্দুছ, হাসান আরিফ, তারিক সুজাত, মাসুম রেজা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোভিড মহামারির মধ্যেই ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, নারীহত্যা ও নারী নির্যাতনের উপর্যুপরি ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত বোধ করছি। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা আরও তলিয়ে বিচার করে এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জাতীয় ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অতীব জরুরি। সে জন্য অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।
নারী-হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী তাদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত ও নিন্দিত করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের ক্ষমতার উৎস, তাদের প্রশ্রয়দাতা এবং রাজনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগ ও অবস্থান বিচার করে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ দরকার।
এখানে আমরা গভীর পরিতাপ ও বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করি ধর্ষণের সঙ্গে ছাত্র-যুব সমাজের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে এবং রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকে তারা ব্যবহার করতে সচেষ্ট রয়েছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সক্ষম হচ্ছে। এই প্রবণতা মোকাবিলায় ক্ষমতাবান রাজনৈতিক সংগঠন বা ব্যক্তি তাদের দায় কোনোভাবে এড়াতে পারেন না। ক্ষমতাবানদের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা প্রদান এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা না দেখি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও বিশেষভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুদায়িত্ব আমরা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
ধর্ষণকারী ও নারী নির্যাতনকারীদের দুষ্টুচক্রে আঘাত করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি দলীয় পরিচয়-ব্যবহার করে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশলের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। এর পাশাপাশি জোরদার শিক্ষা ও সংস্কৃতি আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষাবিদ শিল্পী সংস্কৃতিকর্মীদের। আমরা মনে করি সব মিলিয়ে দৃঢ় ও বৃহত্তর জাতীয় ও সামাজিক প্রতিরোধের এখনই সময়।
