সংসদ সদস্যদের ৬১ ভাগ ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ ৫ ভাগ: টিআইবি

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৭ এএম
একাদশ জাতীয় সংসদে ৬১ শতাংশ সাংসদ ব্যবসায়ী। রাজনীতিবিদ রয়েছেন মাত্র ৫ ভাগ। বাকি ৩৪ শতাংশের মধ্যে আইনজীবী ১৩ ভাগ ও অন্যান্য পেশার রয়েছেন ২১ ভাগ।
 
বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ : একাদশ জাতীয় সংসদ (১ম থেমে ৫ম অধিবেশন)’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। টিআইবি বলছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদলের সম্ভাবনা দূরীভূত হয়েছে।
 
সংসদে কোরাম সংকটে ক্ষতি ২২ কোটি টাকা, আইন প্রণয়নে ব্যয় হয়েছে ৯ শতাংশ সময়। অসংসদীয় ভাষা বন্ধে স্পিকার নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বলে টিআইবির পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।  
 
টিআইবি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংসদে মাত্র ১৮ শতাংশ সদস্যের পেশা ছিল ব্যবসা। ক্রমান্বয়ে এ হার বৃদ্ধি পেয়ে ৬১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর/তদূর্ধ্ব প্রায় ৭৭ শতাংশ। এইচএসসি সমমানের প্রায় ১২ শতাংশ, এসএসসি বা তার কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ১১ শতাংশ সংসদ সদস্য রয়েছেন।
 
আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের শতকরা ৫৯ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির শতকরা ৫৬ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। অন্যদিকে ভারতের ১৭তম লোকসভায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে রাজনীতিক ৩৯%, ব্যবসায়ী ২৩%, আইনজীবী ৪% এবং অন্যান্য পেশার সদস্য রয়েছেন ৩৮%। 
 
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদলের সম্ভাবনা দূরীভূত : দেশে শান্তিপূর্ণ এবং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা রদবদলের সম্ভাবনা দূরীভূত হয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমান বলেন, ‘অষ্টম ও নবম সংসদে সমস্যার মূল যে জায়গা ‘সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি’ অগ্রহণযোগ্য ছিল। সেটি বন্ধ হয়েছে চড়া দামে। এত বেশি চড়া দামে যে, মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো হয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। শান্তিপূর্ণ এবং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা রদবদলের সম্ভাবনা দূরীভূত হয়েছে। তারই প্রভাব আমরা দেখতে পারছি জাতীয় সংসদের মধ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় একাদশ সংসদে একদলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে একচ্ছত্র ক্ষমতার সুযোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। সংসদের মৌলিক দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব- এই তিনটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’
 
প্রতিবেদনটিতে টিআইবি পর্যবেক্ষণে বলেছে, প্রশ্নবিদ্ধ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে বিশেষত আইন প্রণয়ন, বাজেট প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনকালীন মহাজোটের একটি দল নিয়ম রক্ষার প্রধান বিরোধী দল হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তাদের জোরালো ভূমিকার ঘাটতি লক্ষ করা গেছে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত