নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অপমান সহ্য করতে না পেরে দুই সন্তানসহ বিষজাতীয় তরল পদার্থ (হারপিক) পান করেছেন উর্মি আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূ। এতে মা উর্মি আক্তার ও তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে মিম আক্তারের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আড়াই বছর বয়সী শিশু সন্তান আবির হোসেন মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে নিহত উর্মির স্বামী মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় গাড়িচালক মিলন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী উর্মি আক্তার তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে মাধবদী থানার জোয়ারিয়াকান্দা এলাকার কাইল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। গত দুই মাস আগে ওই ভাড়া বাসায় ওঠার পরও উর্মির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
গত বুধবার পারিবারিক কলহের জেরে উর্মি ও মিলনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী মিলন নিজ পায়ের জুতা খুলে স্ত্রী উর্মিকে জুতাপেটা করেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে তিনি নিজে বিষজাতীয় (হারপিক) তরল পান করেন এবং তাঁর দুই শিশুসন্তানকেও তা পান করান।
তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশু মিম ও আবিরকে বিকেলেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শিশু আবিরকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা শুরু করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের মা নারগিস বেগম বাদী হয়ে জামাতা মিলন মিয়াসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত মিলন মিয়া পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
শার্শায় বিষ খাইয়ে দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা