৭ কর্মদিবসের মধ্যে আপিল, প্রস্তুতি মিন্নিসহ আসামিদের

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৪ পিএম

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলার রায় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হবে। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামির পরিবার তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে উচ্চ আদালতের অনুমোদন লাগে যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। ডেথ রেফারেন্স এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি নিজেও করতে পারেন। আর তিনি না করলে আদালতের বিধান অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্সের ওপর উচ্চ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। এ ছাড়া দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। ডেথ রেফারেন্সের অনুমোদন ও সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপিলের ওপর এক সঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র প্রস্তুতির কাজ চলছে। রোববার নাগাদ ডেথ রেফারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পৌঁছাতে পারে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে ‘নিরাপত্তার কারণে’ তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানান।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া রিফাত ফরাজীর আইনজীবী সোহরাব হোসেন ফরাজী বলেন, আমরা রায়ে সংক্ষুব্ধ। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমার মেয়ে নির্দোষ। আদালত যে রায় দিয়েছে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। উচ্চ আদালতে নিশ্চয় আমার মেয়ের ন্যায়বিচার পাব।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, বুধবার রায় ঘোষণার পরই আপিলের জন্য সই মোহর চেয়ে আবেদন করেছি। সই মোহরের অনুলিপি পেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

তিনি আরো বলেন, ডেথ রেফারেন্স এমন একটি বিষয় যেখানে আসামি নিজে আপিল না করলেও আদালতের বিধান অনুযায়ী এর ওপর শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বিচারিক আদালতের রায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উচ্চ আদালত রায় বহাল, পরিবর্তন, সংশোধন ও পরিমার্জন করে যে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। ওই হত্যা সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ একে একে গ্রেপ্তার করেন এজাহারভুক্ত আসামিদের। রিফাতের ওপর হামলার ছয় দিন পর ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

রিফাত হত্যার দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চার্জ গঠন করেন। ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত। গত ১৬ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষে যুক্তি-তর্ক শেষ হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত