অন্ধ মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবার সফল হতে পারে। মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সমস্যার সমাধান জেব্রাফিশের চোখে লুকিয়ে আছে।
মাছটি ছোট হলেও এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বেশ চমকপ্রদ। যা মানুষের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।
ভ্যান্ডারবিল্ট ভিশন রিসার্চ সেন্টারের প্রফেসর ডেভিড জে ক্যালকিনস নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে লিখেছেন, ‘জেব্রাফিশের অনেক জিনের (৭০ শতাংশ) সঙ্গে মানুষের মিল থাকলেও অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে তাদের চোখের কার্যক্রম আলাদা। মাছটির চোখ আহত হলে রেটিনার বিভিন্ন অংশ আবার তৈরি হয়।’
মানুষের চোখের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে করা যায়, বিজ্ঞানীরা এখন সেটি জানার চেষ্টা করছেন।
‘এই মাছ এবং মানুষের রেটিনার কোষগুলো প্রায় একই,’ জানিয়ে জেমস প্যাটন নামের আরেক বিজ্ঞানী বলেন, ‘জেব্রাফিশের চোখের কোনো কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার তৈরি হয়। মানুষের ক্ষেত্রেও এমনটি করা যেতে পারে।’
‘এই মাছের চোখ নষ্ট হয়ে গেলেও আড়াই সপ্তাহের ভেতরে ঠিক হয়ে যায়।’
জেব্রাফিশ এবং মানুষের চোখে একই মুলার গ্লিয়া কোষ থাকে। মাছটির ক্ষেত্রে এই কোষ আবার তৈরি হলেও মানুষের ক্ষেত্রে হয় না।
বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন, নির্দিষ্ট ধরনের মাইক্রো আরএনএ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের ক্ষেত্রে মুলার গ্লিয়া আবার সচল করা যায় কি না, যেটা এই মাছের চোখে হয়।
মানুষের অনেক রোগের বিষয়ে তথ্য পেতে এই জেব্রাফিশ নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে থাকেন। চোখের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে আগে অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
