পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি আব্দুল বাতেনকে পুনর্বহাল না করলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
গতকাল সোমবার উপজেলার চাকলা মোড়ে আসন্ন বেড়া উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শেষে পথসভায় তিনি এ হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ পদে উপনির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে শোডাউনে নেমেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি আব্দুল বাতেনের অনুসারী। গত কয়েকদিন ধরে শোডাউনে তিনি বাতেনের অব্যাহতিকে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন।
বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল উপজেলার ঢালারচর ইউপির চেয়ারম্যান কোরবান আলী ত্রাণের ২২৯ বস্তা চালসহ গ্রেপ্তার হন। কোরবান আলীকে রক্ষা করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন বিভিন্ন মহলে জোর তদবির করেন। এ খবর জানাজানি হলে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ ১৪ এপ্রিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আব্দুল বাতেনকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের শূন্য পদে সিনিয়র সহ-সভাপতি অনিল পালকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলালকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তবে আব্দুল বাতেনের অনুসারীরা দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তারা আব্দুল বাতেনকে পুনর্বহালের দাবি করে আসছেন।
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আব্দুল বাতেনকে ষড়যন্ত্র করে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে বেড়ায় আওয়ামী লীগ অভিভাবকশূন্য। অবিলম্বে তার অব্যাহতি প্রত্যাহার করা না হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।
তবে নজরুল ইসলামের এমন বক্তব্য সংগঠনবিরোধী ও গঠনতন্ত্র অমান্যের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলাল। তিনি বলেন, আব্দুল বাতেনকে দলীয় সভানেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের এখতিয়ারও তার। আমরা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। একটি মহল অযথাই দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা সদর আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা নজরুল ইসলামের বক্তব্যের বিষয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে অবহিত করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
