ক্যানসারের কাছে হার মানলেন কিংবদন্তি গিটারিস্ট

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৫ পিএম

সারা বিশ্বের অসংখ্য গিটার বাজিয়েদের অনুপ্রেরণা এডি ভ্যান হ্যালেন। ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে মারা গেলেন এই কিংবদন্তি। বিবিসি জানায়, তার ছেলে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ায় মঙ্গলবার হাসপাতালে মারা যান তিনি। ডাচ-আমেরিকান এই সংগীতজ্ঞের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

তিনি ছিলেন জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ভ্যান হ্যালেন সহপ্রতিষ্ঠাতা। দলটি ‘জাম্প’ শিরোনামের গানের জন্য বেশি পরিচিত, যা ১৯৮৪ সালে ইউএস চার্টের শীর্ষে উঠে আসে।

কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলে ওলফগ্যাং লেখেন, ভ্যান হ্যালেন ছিলেন তার দেখা সেরা বাবা। তার সঙ্গে মঞ্চ বা মঞ্চ বাইরে প্রতিটি মুহূর্তই ছিল উপহার।

২০০৬ সালের ভ্যান হ্যালেনের বেজিস্ট হিসেবে যুক্ত আছেন ওলফগ্যাং।

আরও বলেন, “আমার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং মনে হচ্ছে কখনো এই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারবো না। পপ আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।”

‘মোৎসার্ট অব রক গিটার’ হিসেবে পরিচিত এই কিংবদন্তিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মান জানিয়েছেন রক জগতের নামী ব্যক্তিরা। যেমন গায়ক জেন সিমনস বলছেন, “গিটার গড”।

ভ্যানের দীর্ঘদিনের ব্যান্ড সঙ্গী ডেভিড লি রথ সাদা-কালো ছবি শেয়ার করে লেখেন, কী চমৎকার দীর্ঘ ভ্রমণ ছিল।

গত এক বছর ধরে চিকিৎসার জন্য নিয়মিত হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ভ্যান হ্যালেন। সম্প্রতি কেমোথেরাপিও নিয়েছেন তিনি।

এ গিটারিস্ট নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারেই ছিল সংগীতের আবহে। ছোটবেলায় বাড়িতে শেখেন পিয়ানো।

১৯৬২ সালে পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন হ্যালেন। দীর্ঘ নৌভ্রমণে তাদের সঙ্গী ছিল একটি পিয়ানো। একটু বড় হতেই প্রথমে ড্রামস, পরে গিটারে মনোযোগ দেন তিনি। শুরুর দিকে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে বাড়ি ও বারে বাজাতেন।

১৯৭০ এর দশকে লস অ্যাঞ্জেলসে তৈরি হয় ভ্যান হ্যালেন ব্যান্ড। সঙ্গে ড্রামার হিসেবে ছিলেন ভাই অ্যালেক্স, ডেভিড লি রথ হন গায়ক ও বেজিস্ট হিসেবে যোগ দেন মাইকেল অ্যান্থনি। ১৯৭৮ সালে প্রথম অ্যালবামটি উঠে আসে বিলবোর্ড চার্টের ১৯ নম্বরে। যা ছিল ওই দশকের অন্যতম সফল ডেবিউ।

তবে তারা শীর্ষে পৌঁছান ষষ্ঠ অ্যালবামে। মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে, যার নামও ‘১৯৮৪’। এর দুই গান ‘জাম্প’ ও ‘হট ফর টিচার’ ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়।

২০০১ সালে হ্যালেনের জিহ্বায় ক্যানসার ধরা পড়ে। ওই সময় সার্জারি করে তার জিহ্বার এক-তৃতীয়াংশ বাদ দেওয়া হয়। পরের বছর নিজেকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করেন। তবে টিএমজেড জানায়, সর্বশেষ পাঁচ বছর তাকে লড়তে হয়েছে গলার ক্যানসারের সঙ্গে। এ চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে যাতায়াতে ছিলেন নিয়মিত।

ওই সময় চিকিৎসার ফাঁকে ফাঁকে নিয়মিত কনসার্টেও হাজিরা দিয়েছেন এডি ভ্যান হ্যালেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত