মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের একটি টিউবয়েল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি বের হচ্ছে। হাতলে চাপ ছাড়াই অনর্গল পানি পড়ার দৃশ্যকে অলৌকিক ভেবে এখন সেই টিউবয়েলের পানি নিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। তাদের ধারণা এই অলৌকিক পানি খেলে সব রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যাবে।
তবে পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকরা বলছেন, বর্ষায় পানির স্তর ওপরে উঠে আসে। তখন পানির চাপ ওপরের দিকে বেড়ে যায়। সেই কারণে এমন অনর্গল পানি পড়ছে। আবার এ পানিতে সব রোগ সারে এর বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই।
সরেজমিন দেখা যায়, গাংনী উপজেলার নিভৃত ভবানীপুর গ্রামের রাস্তার পাশে কিছু দূরের একটি টিউবয়েল থেকে দিনরাত অনর্গল পানি পড়ছে। হাতলে চাপ কিংবা বৈদ্যুতিক কোনো সংযোগ ছাড়াই বের হচ্ছে এ পানি। এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয় গ্রামের মানুষ। যা মুখে মুখে ছড়িয়ে যায় গ্রামান্তরে। গুজব রটে যায় এই অলৌকিক পানি পান করে অসংখ্য লোকের রোগমুক্তি ঘটেছে। এ কথা ছড়িয়ে পড়লে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার একাংশের মানুষজন পানি নিতে দলে দলে এখন ভিড় করছেন ভবানীপুর গ্রামে। এই গুজব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আরও বিস্তার লাভ করলে উৎসুক মানুষেরও এখন ভিড় বেড়েছে। বর্তমানে করোনা মহামারীসহ নানা রকম জটিল রোগ থেকে মুক্তির আশায় মানুষজন প্রতিদিন টিউবয়েলের পানি নিতে বিভিন্ন পাত্র হাতে নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ওই গ্রামে। অনেকে পানি পান করছেন, আবার অন্যকে পান করানোর জন্যও পানি ভরে নিয়ে যাচ্ছেন বোতলে। যাদের অধিকাংশই নারী।
টিউবয়েলটির মালিক আনারুল ফকির জানান, তিনি ফকির তন্ত্রের মানুষ। তার আখড়াটি মাথাভাঙ্গা নদীপাড়ে। তিনি কুষ্টিয়ার লালন আখড়ায় থাকা অবস্থায় শুনতে পান তার টিউবয়েল থেকে অনবরত পানি বের হচ্ছে। এই শুনে আখড়ায় ফিরে দেখেন শত শত মানুষ আসছে আর পানি নিয়ে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও তারাগুনিয়া গ্রাম থেকে আসা লাভলী খাতুন, বছিরুন নেছা, শ্যামলী আক্তার জানান, তারা আটজন কুষ্টিয়া থেকে ইজিবাইক ভাড়া করে এসেছেন। লাভলী আক্তার (৪২) বলেন, আমি লিভারের রোগী। কোনো ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আল্লাহ চাইলে এই পানির অসিলায় যদি রোগ ভালো হয়, তাই এসেছি।
ভবানীপুর গ্রামের কুদরত ইসলাম বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে পানি নিয়ে যাচ্ছে তাই আমরা নিষেধ করতে পারছি না। এখানে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার শঙ্কা থাকলে প্রশাসনকে জানানো হবে।
গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (অব.) এনামুল আযীম বলেন, সাধারণত বর্ষার সময় পানির লেয়ার ওপরে উঠে যায়। সে সময় লেয়ারটি যদি বাঁকা বা আর্টিজান কূপের সৃষ্টি হয় আর সেই স্থলের মধ্য দিয়ে টিউবয়েলের পাইপ থাকলে অনবরত পানি উঠতে থাকবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম বিপ্লব বলেন, ওই পানিতে সব রোগের মুক্তি মিলবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা গুজব।
