কমরেড ফরহাদ স্মরণে প্রদর্শনী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ১১:০১ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার উপজেলা বলরামহাটে অবস্থিত কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিটি হাসপাতালের আয়োজনে বাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত এই নেতাকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়।

‘মুক্তিযুদ্ধ, কমরেড ফরহাদ ও খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আনজুমান আখতার। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমরেড ফরহাদের দীর্ঘদিনের অনুসারী/সহযোদ্ধা বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ, দেবীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের সদ্য সাবেক কমান্ডার স্বদেশ চন্দ্র রায়, বোদা উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ এর সদ্য সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কাশেম, বোদা পাথরাজ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. আমিনুল ইসলাম, বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আশরাফুল আলম লিটন, কমরেড ফরহাদের অনুসারী প্রামাণিকপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আহমদ আলী, কমরেড আবুল কালাম।

আলোচনাসভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। দেশের মানুষের খাদ্যের অধিকার, কর্মের অধিকার, শ্রেণি বৈষম্য ও ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

‘খাদ্য সবার অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার-পূরণে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিপক্ষ দল বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয় ও দলনেতা সিনথিয়া রহমান সানু শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে কমরেড ফরহাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা দুর্লভ ছবি দেখে দূর দূরান্ত থেকে আসা তার সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক অনুসারীরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। জেলে বসে তার লেখা নানা চিঠিও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।

কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) এর সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। সংসদে তার দেয়া দীর্ঘ বাজেট বক্তব্য সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল। জীবনের ১৪ বছর তিনি আত্মগোপনে কাটানোর পাশাপাশি কারাগারে বন্দী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে সিপিবির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক হুলিয়া মাথায় নিয়ে ৬২ সালে ছাত্র ও শ্রমিকদের সংগঠিত করেন গণ-আন্দোলনের জন্য। ৬৯, ৭১ এবং পঁচাত্তর পরবর্তী স্বৈরশাসনে জেল জুলুম সত্ত্বেও তিনি সামরিক শাসনবিরোধী জাতীয় ঐক্য তথা ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠন, ৫ দফা দাবি প্রণয়ন ও যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত