ইতিহাস এগোয় সামনের দিকে, কিন্তু তাকে বোঝা যায় পেছনের দিকে তাকিয়ে। পেছন ফিরে তাকালে আজ আমরা বুঝতে পারি যে দেশভাগটা মোটেই অনিবার্য ছিল না। স্বার্থবাদী ইংরেজ, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগই অনিবার্যতাটা তৈরি করেছিল, নিজ নিজ স্বার্থে। তাদের তৎপরতার দরুন সাম্প্রদায়িক বিরোধ ভয়াবহ আকার ধারণ করল এবং তার মধ্যেই কংগ্রেস ও লীগের নেতারা চাইলেন আপন আপন প্রাপ্য বুঝে নেবেন। ইংরেজদের ভাবটা ছিল এই রকমের যে, আমরা চলে যাব, এখন তোমরা ঠিক করে নাও কীভাবে ভাগবাটোয়ারা করবে। সাম্প্রদায়িকতার ওই রাজনীতি কিন্তু কিছুতেই প্রধান হয়ে দাঁড়াতে পারত না, যদি সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতাকে অন্য সবকিছুর ওপরে রাখা যেত। কিন্তু তার জন্য তো আবশ্যক ছিল ঐক্যের, সে ঐক্য ছিলই না; বরং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গৃহযুদ্ধের আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। হানাহানি ক্রমাগত উচ্চপর্যায়ে চলে যাচ্ছিল।
সাম্প্রদায়িকতা নামের জিনিসটা দাঁড়াতেই পারত না যদি সম্প্রদায়কে জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করে জাতীয়তার প্রধান ভিত্তি যে ভাষা সেই সত্যটাকে মেনে নেওয়া হতো। তাহলে দেখা যেত যে ভারতবর্ষ একটি বা দুটি নয়, বহু জাতির দেশ। ভাষার বিবেচনায় সাতচল্লিশ সালে সতেরোটি জাতির কথা বলা হচ্ছিল। সেটা কমিউনিস্টরাই বলছিল, জাতীয়তাবাদীরা বলছিল না; জাতীয়তাবাদীরা তো এক জাতি নাকি দুই জাতি এই প্রশ্নের সশস্ত্র মীমাংসার কাজেই ব্যস্ত ছিল। ভাষাকে মুখ্য বিবেচনায় মানলে ধর্ম অপ্রধান হয়ে পড়ত এবং ভাষাভিত্তিক সব কটি জাতি মিলে তাদের অভিন্ন শত্রু ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইটাকে প্রধান কাজ হিসেবে সামনে রাখতে পারত। জাতিসমস্যার ওই মীমাংসা শ্রেণিসমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার পথটাকে পরিষ্কার করে দিত। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদীদের পক্ষে মোটেই সম্ভব ছিল না। তারা সবাই ছিল আপসপন্থি এবং দর-কষাকষি করে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চিন্তায় নিমগ্ন।
কমিউনিস্ট পার্টি তখন সঠিকভাবেই বলেছিল যে, ভারত বহুজাতির দেশ। এ ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়নে জাতি সমস্যার সমাধানের দৃষ্টান্ত তাদের সাহায্য করেছিল। বহু জাতির বাস্তবতাকে তুলে ধরে কমিউনিস্ট পার্টি বলতে পারত যে, ঔপনিবেশিক শাসনের ওই মুহূর্তে সবার অভিন্ন শত্রু হচ্ছে ব্রিটিশ শাসক; ওই শাসককে বিতাড়নে সব জাতি একসঙ্গে অংশ নেবে এবং বিতাড়ন শেষে সব কটি জাতি সমমর্যাদায় স্বাধীনতা ভোগ করবে। ইউরোপ যেমন জার্মান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ ইত্যাদিরা আলাদা আলাদা জাতি হিসেবে বিদ্যমান; ভারত-রাষ্ট্রেও তেমনি বাঙালি, পাঞ্জাবি, মাদ্রাজি, গুজরাটি ইত্যাদিরা স্বতন্ত্র থাকবে, হয়তো তারা একটি ভারতীয় ইউনিয়নের ভেতরে রয়ে যাবে, কিন্তু প্রত্যেক জাতিরই থাকবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার। জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা, এই দুই সমস্যার এটাই ছিল সমাধান। এই নীতি ধরে এগোলে দেশভাগ হতো না এবং ভারতবর্ষকে ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হতো না, প্রকৃত স্বাধীনতাই অর্জিত হতো। ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসনের ইংরেজি নাম ডমিনিয়ন স্ট্যাটাস, যেটি সাতচল্লিশে পাওয়া গেছে। পরিপূর্ণ স্বাধীনতা সুবিধাবাদী ও সুবিধাভোগী জাতীয়তাবাদীদের চাওয়ার কথা নয়, তারা সেটা চায়ওনি, বরং জাতি সমস্যার ওই সমাধানটা তারা ঘটতে দেয়নি। কারণ হচ্ছে, তাদের বস্তুগত স্বার্থ। প্রত্যেকটি জাতি যদি একটি করে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ফেলে, তাহলে নেতাদের সর্বভারতীয় কর্তৃত্বের স্বপ্ন ধুলোতে গড়াগড়ি দেবে, তারা ‘প্রাদেশিক’ নেতা হয়ে যাবেন। সেটা গান্ধী, নেহরু, জিন্নাহ কেউই চাননি, চাননি এমনকি বাঙালি সুভাষচন্দ্র বসুও।
কমিউনিস্ট পার্টিও কিন্তু বহুজাতির বাস্তবতাকে পরিষ্কারভাবে সামনে নিয়ে আসতে পারেনি। এই প্রশ্নে তাদের ভেতর এক ধরনের দোদুল্যমানতা ছিল। যেজন্য একপর্যায়ে তারা মুসলমান সম্প্রদায়ের পাকিস্তান দাবিকে সমর্থন পর্যন্ত দিয়ে বসেছিল। তাদের মস্ত বড় অসাফল্য এখানেই যে, তারা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারেনি। কংগ্রেস ও লীগ কারও পক্ষেই ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থান নেওয়া সম্ভব ছিল না। ধর্মকে তারা আঁকড়ে ধরেছিল আত্মপরিচয়ের ধ্বজা হিসেবে। উভয় দলের নেতারাই জানতেন যে ধর্মীয় পরিচয়টা দাঁড় করিয়ে রাখতে না-পারলে বিভাজনের সীমান্তটা ভেঙে পড়বে, ভারতবর্ষের বহুজাতিত্বটা বেরিয়ে আসবে এবং তারা সম্ভাব্য বৃহৎ রাষ্ট্রের কর্তা থাকবেন না, প্রাদেশিক হয়ে যাবেন। কমিউনিস্টরা কিন্তু পারত ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান নিতে। ওই অবস্থান থেকে বহুজাতির তত্ত্ব সামনে নিয়ে আসা তাদের জন্য দুরূহ হতো না। সেভাবে এগোতে পারলে নিপীড়িত শ্রেণিসমূহের মানুষরা সবাই তাদের সঙ্গে যোগ দিত। স্বাধীনতা-সংগ্রামের সময়ে মেহনতি মানুষরা বলত, ‘আজাদি কি লিয়ে কংগ্রেস, রোটিকে লিয়ে কমিউনিস্ট’; এই ধারণাটা তৈরি হয়েছিল এই কারণে যে, কংগ্রেস ও লীগকে পেছনে ঠেলে দিয়ে কমিউনিস্টরা সামনে চলে আসতে পারেনি। সামনে আসতে পারার ব্যাপারে খুব বড় ধরনের সুবিধা হতো তারা যদি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের কৃত্রিমতার বাইরে নিয়ে সব মানুষকে সংগ্রামের অভিন্ন কাতারে দাঁড় করিয়ে দিত। তাহলে মানুষ দেখত যে, প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য আসল সংগ্রামী কমিউনিস্টরাই, জাতীয়তাবাদীরা নয়। স্বাধীনতার ক্ষুধা এবং খাদ্যের ক্ষুধা মেটাতে কমিউনিস্টরাই পারবে, জাতীয়তাবাদীদের সে ক্ষমতা নেই। ওই কাজটা কমিউনিস্টরা করতে পারেনি। কংগ্রেস ও লীগকে সামনে যাওয়ার জন্য জায়গা করে দিয়ে কমিউনিস্টরা চলে গিয়েছিল তিন নম্বরে, তাদের থাকা দরকার ছিল এক নম্বরে। এক নম্বরে থাকলে দেশভাগ তো হতোই না, দেশের মানুষ পেত পূর্ণ স্বাধীনতা। ভারতবর্ষ ইউরোপের মতো স্বাধীন কয়েকটি রাষ্ট্রের স্বাধীন ভূমিতে পরিণত হতো।
কমিউনিস্ট পার্টির মূল দায়িত্বটা সব সময়েই ছিল সামাজিক বিপ্লব সম্পন্ন করার। সেই বিপ্লব ঘটলে সুবিধাভোগী শ্রেণি সুবিধাবঞ্চিতদের ওপর শোষণ চালাতে পারত না। মানুষের মুক্তি ঘটত। সামাজিক বিপ্লব রাশিয়াতে ঘটেছে, ঘটেছে চীনে এবং সে-বিপ্লব ঘটিয়েছে কমিউনিস্টরাই। ভারতবর্ষেও কমিউনিস্টরা অনেক কাজ করেছে। গুণগতভাবেও তাদের কাজ সামান্য নয়। অবস্থানে
তৃতীয় হলেও আত্মত্যাগের কঠিন পরীক্ষায় তারা ছিল প্রথম। মেহনতি মানুষের পক্ষে তারা যেভাবে দাঁড়িয়েছে, অন্য কেউ সেভাবে দাঁড়ায়নি। শ্রেণি সংগঠন কমিউনিস্টরাই গঠন করেছে। তাদের আন্দোলনের কারণে মেহনতিদের জন্য সুযোগ-সুবিধা কিছুটা হলেও বেড়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনেও তারা ছিল। ১৯৪৫-এ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কলকাতায় যে প্রায়-বিপ্লবী-পরিস্থিতির দৃষ্টি হয়েছিল, সেটি মূলত কমিউনিস্টদেরই কৃতিত্ব।
কৃষক আন্দোলনও তারাই সংঘটিত করেছে। রাজকীয় নৌবাহিনীতে বিদ্রোহের পক্ষে ও আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতাদের বিচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তাদের অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান। ১৯৪২ সালের আগস্টে বিদ্রোহের ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ ডাক দিয়ে কংগ্রেসের নেতারা যখন কারাবন্দি হয়ে যান, আন্দোলনের ক্ষেত্রে তখন সমাজতন্ত্রীরাই ছিল চালিকাশক্তি। সমাজতন্ত্রীদের বড় অংশ ছিল কমিউনিস্টরা।
কিন্তু সামাজিক বিপ্লবটা তো ঘটেনি। না-ঘটার পেছনে বস্তুগত কারণ ছিল, যেমন ছিল আত্মগত কারণ। বস্তুগত কারণ একাধিক। প্রথম কারণ, ভারতবর্ষ স্বাধীন ছিল না, ছিল পরাধীন। তাই বিপ্লবের আগে প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল স্বাধীনতার। দ্বিতীয়ত, কমিউনিস্টরাই যে তাদের প্রধান শত্রু, সেটা নির্ধারণে ব্রিটিশ শাসকরা মোটেই ভুল করেনি এবং সেই জ্ঞান থেকে কমিউনিস্টদের ওপর যে ধরনের নিপীড়ন তারা চালিয়েছে, তেমনটা অন্য কোনো গোষ্ঠী বা দলের ওপর চালায়নি। তারা একটার পর একটা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়েছে এবং পার্টিকে নিষিদ্ধ করেছে, যে-নিষিদ্ধকরণ অন্য কোনো পার্টির ক্ষেত্রে ঘটেনি। তৃতীয় কারণটা ছিল জাতীয়তাবাদীদের দৌরাত্ম্য। তারাও কমিউনিস্টদের শত্রু বলেই চিহ্নিত করে ফেলেছিল। কট্টরপন্থি জাতীয়তাবাদীরা ইংরেজদের চেয়েও অধিক বিপজ্জনক মনে করত ওই কমিউনিস্টদের। কারণ তারা জানত যে ব্রিটিশের সঙ্গে সমঝোতায় আসার আশা তবু ছিল, কমিউনিস্টরা কোনো আপসে আসবে এমন ভরসা মোটেই ছিল না। কমিউনিস্টরা সুবিধাভোগীদের কোনো ছাড় দেবে না, তাদের সমূলে উৎপাটিত করবে, এমনই ছিল শঙ্কা। গান্ধী নিজে কট্টরপন্থি ছিলেন না, তিনি অহিংসায় বিশ্বাসী বলেই খ্যাতিবান হয়ে ছিলেন, কিন্তু কমিউনিস্ট আন্দোলনের তিনি যতটা ক্ষতি করে গেছেন, অন্য কেউ ততটা করতে পারেনি। জাতীয়তাবাদীরা নয়, ব্রিটিশরাও নয়। কমিউনিস্টদের জন্য যে ধর্মনিরপেক্ষতা আবশ্যক, গান্ধী তার নেতৃত্ব দ্বারা সেই বোধের বিকাশের প্রবল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছিলেন। তিনি অসম্প্রদায়িক ছিলেন ঠিকই, কিন্তু মোটেই ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন না। না দার্শনিকভাবে, না রাজনৈতিকভাবে। দার্শনিক দিক দিয়ে তিনি ছিলেন ভাববাদী, রাজনৈতিকভাবে সব ধর্মের সমান মর্যাদায় বিশ্বাসী, কিন্তু একই সঙ্গে আবার রামরাজ্যের স্বাপ্নিক। সব ধর্মের সমান মর্যাদাবাদীরা মোটেই ধর্মনিরপেক্ষ নন; আর রামরাজ্য তো কোনোভাবেই হিন্দুত্ববাদিতার সম্পর্কবিচ্যুত নয়। গান্ধীর পেছনে ছিল পুঁজির মালিক বিড়লা-টাটাদের আর্থিক সমর্থন; জিন্নাহ যেমন পেয়েছেন ইস্পাহানি-আদমজির সহযোগিতা।
উপমহাদেশের মধ্যবিত্ত স্বাধীনভাবে গড়ে ওঠেনি, গঠন ও স্থিতির ব্যাপারে তাকে নির্ভর করতে হয়েছে ঔপনিবেশিক শাসকদের ওপরে। নির্ভরশীলতার এই শ্রেণিগত প্রবণতা থেকে উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনও মুক্ত হতে পারেনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর তার নির্ভরশীলতাটা ছিল অত্যন্ত অধিক; সেটি উৎকটভাবে প্রকাশ পায় হিটলার যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে তখন। সমাজতন্ত্রের পিতৃভূমিকে রক্ষার প্রয়োজনে কমিউনিস্ট পার্টি ‘শত্রুর শত্রু আমার মিত্র’, এই নীতি গ্রহণ করে এবং দেশে ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি অবৈরী মনোভাব প্রদর্শনের দায়ে অভিযুক্ত হয়। দেশজুড়ে যখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে পৌঁছেছে, তখন পার্টির এই অবস্থান তাকে জনগণের কাছ থেকে কিছুটা হলেও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। তেতাল্লিশের মন্বন্তরে এবং ছেচল্লিশের দাঙ্গায় কমিউনিস্ট কর্মীরা যে ভূমিকা নিয়েছেন, অন্য কারও পক্ষে তা নেওয়া সম্ভব ছিল না, সেটা তারা নেনওনি। পার্টির কর্মীরা তেভাগা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। পার্টির সদস্যসংখ্যা ও কর্মপরিধি দুটোই ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিপ্লবী কার্যক্রম এগোয়নি। কমিউনিস্ট পার্টি প্রথমে স্থির করেছিল যে, ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে আন্দোলনের স্তরটা হবে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের, পরে সঠিকভাবেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবে কুলাবে না, প্রয়োজন হবে সরাসরি জাতীয় বিপ্লবী আন্দোলনের। কিন্তু জাতি বলতে এক বা দুই জাতির অতিশয় অন্যায় ও অত্যন্ত ক্ষতিকর বিভাজনকে রুখে দেওয়ার যে কর্মপ্রবাহ অত্যাবশ্যকীয় ছিল, কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে সেটা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বিপ্লব না-ঘটার ফলটা নানাভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকাশ যে, সাতচল্লিশের দেশভাগ সে-ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। দেশভাগকে জাতীয়তাবাদীরা অনিবার্য করে তুলল, কমিউনিস্টরা সেটা থামাতে পারল না, দেশভাগের পেছনে মর্মান্তিক সত্য হচ্ছে এটিই।
লেখক ইমেরিটাস অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
