করোনা জর্জরিত সময়ে এবার বিরল এক মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদ্যাপন করছে পৃথিবী। মহামারীর এই সময়ে মানুষের এই গ্রহ বুঝতে পারছে মনের যত্নই বেঁচে থাকার আসল ভ্যাকসিন।
এই দিনগুলোতে যারা ইমিউনিটি শব্দের আভিধানিক অর্থ ভালো করে অনুধাবন করেছেন, তারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন মন ভালো না থাকলে ইমিউন সিস্টেম ভেঙে পড়ে।
১০ অক্টোবরের দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ২০২০ সালের দিবসকে যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এ বছর মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য: অধিক বিনিয়োগ, অবাধ সুযোগ’। দিবসটি ১৯৯২ সালে প্রথম পালন করা হয়।
মার্কিন চিকিৎসক ম্যাকার্থি সিএনএনে নিজের লেখা কলামে বলেছেন, ‘আপনার মনের সুখ আপনাকে চিনে নিতে হবে। বাজারের ভ্যাকসিনে হয়তো একটি রোগ থেকে সুরক্ষা পাবেন। সার্বিকভাবে ভালো থাকতে মনের ভ্যাকসিন নিজেকেই চিনতে হবে।’
কিন্তু আসল ব্যাপার হলো সুখী হওয়া অত সহজ নয়। আবার অত কঠিনও নয়। বিজ্ঞানে এটা প্রমাণ হয়েছে যে সুখী হতে হলে সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান এবং কগনিটিভ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলছেন, ‘সুখী হতে সময় লাগবে।’
ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে এই কোর্সটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক স্যান্টোস। এটা মনোবিজ্ঞানেরই একটি শাখা যেখানে সুখ এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে পড়ানো হয়।
‘সুখী হওয়া বিষয়টি এমন নয় যে এটা আপনা আপনি হয়ে যায়। সুখী হওয়ার জন্যে আপনাকে এটা চর্চা করতে হবে,’ বলেন অধ্যাপক স্যান্টোস, ‘এটা অনেকটা ভালো সংগীত শিল্পী বা ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠার মতোই, সাফল্যের জন্যে তাদেরকে যেমন চর্চা করতে হয় সুখী হওয়ার ব্যাপারেও আপনাকে সেটা করতে হবে।’
এ জন্য বিবিসিকে কিছু কৌশলের কথা বলেছেন তিনি।
কৃতজ্ঞতার তালিকা: অধ্যাপক স্যান্টোস তার শিক্ষার্থীদের বলেন, যাদের কাছে বা যেসব জিনিসের কাছে কৃতজ্ঞ প্রতি রাতে তার একটি তালিকা তৈরি করো।
‘এটা শুনতে খুব সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা দেখেছি যেসব শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে এটা চর্চা করেন তাদের সুখী মনে হয়,’ বলেন অধ্যাপক স্যান্টোস।
আরো বেশি করে ও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চেষ্টা করুন: এই কাজটা করা সবচেয়ে সহজ বলে মনে হয় কিন্তু আসলে এই কাজটা করা খুব কঠিন, বলেন তিনি।
এখানে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রতি রাতে আট ঘণ্টা করে ঘুমানো। এবং এই কাজটা করতে হবে এক সপ্তাহ ধরে।
ধ্যান করুন: আপনার কাজ হবে প্রত্যেকদিন ১০ মিনিট করে মেডিটেট বা ধ্যান করা। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয় যা মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করতে পারে।
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরো সময় কাটান: অধ্যাপক স্যান্টোস বলেছেন, গবেষণায় পরিষ্কার একটি বিষয় দেখা গেছে- পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটালে আপনি সুখী হবেন।
আপনার যদি ভালো বন্ধুত্ব থাকে এবং সামাজিক যোগাযোগ থাকে এবং তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয় তখন তারা ভালো বোধ করেন।
