পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদ্রাসায় শিকলে বেঁধে রেখে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করার পর শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম মোবারক (১১)। সে সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের শিক্ষার্থী। বাড়ি আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাঁচামরা গ্রামে। বাবার নাম নজরুল ইসলাম।
মোবারকের স্বজনরা জানান, মাদ্রাসায় প্রায়ই মারধরের শিকার হওয়ায় সেখান থেকে মাঝেমধ্যেই পালিয়ে যেত মোবারক। গত বুধবার মারের ভয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী খালার বাড়িতে চলে যায় সে। সেখান থেকে বুঝিয়ে তাকে ফের মাদ্রাসায় ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু রাতে তাকে লোহার শিকলে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে মাদ্রাসার শিক্ষক পিয়ারুল। পরে মেঝেতে সাতবার থুথু ফেলে মোবারককে তা চেটে তুলতেও বাধ্য করেন তিনি।
এরপর গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সুযোগ পেয়ে মোবারক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক পিয়ারুল ইসলাম ও মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। খবর পেয়ে মোবারকের মা মুর্শিদা খাতুন থানায় এসে ছেলেকে বাসায় নিয়ে যান। মোবারকের শরীরের পেছন দিকে কোমরের নিচে পা পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
মুর্শিদা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছেলেকে আরবি শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। সে মাদ্রাসায় থাকতে চাইত না। তাই বলে শিক্ষকরা ছেলেকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিল এটা জানতাম না।
মোবারকের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ছেলের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, তাকে তিন দিন ধরে বেঁধে রাখা হয়েছে। মোবারকের কোমরের নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। আমরা শিক্ষক পিয়ারুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি ছুটিতে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামের ওপর। শিক্ষক পিয়ারুল জানান, শিশুটি (মোবারক) অবাধ্য ছিল। সে পড়ালেখা ফাঁকি দিতে প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে যেত। তাই তার দাদির নির্দেশে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবার) বিকেলে শিশু মোবারকের বাবা বাদী হয়ে শিক্ষক পিয়ারুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
