সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও সিলেটের এমসি কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ধর্ষকদের শাস্তিসহ নানা দাবিতে ৬ষ্ঠ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাম সংগঠনগুলো।
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করে তারা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানানোর পাশাপাশি ১৬ অক্টোবর বেগমগঞ্জ অভিমুখে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নবিরোধী লং মার্চ কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়া হয়।
ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনীক রায় বলেন, আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী আমরা আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আজ ষষ্ঠ দিনের মতো এখানে অবস্থান নিয়েছি আমরা আগামী ১৬ তারিখ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মসূচী চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, কাল আমাদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী আছে এবং ইতিমধ্যে আমরা ১৬ অক্টোবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত লং মার্চের আয়োজন করেছি। এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে আমাদের ফেইসবুক পেজের মধ্যে দিয়ে।
সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, আমরা দেখেছি যে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানাভাবে আমাদের এই আন্দোলনকে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে, আজকে সকাল বেলাও পুলিশ নারায়ণগঞ্জে বাঁধা দিয়েছে এবং গতকাল ছাত্রলীগের সভাপতি যেভাবে মন্তব্য করেছে তাতে স্পষ্ট শাসকরা ও শাসকদের মদদ পুষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ধর্ষকদের পাহারাদার। আমাদের এ ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে আমাদের আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না।
সমাবেশে বামদল ও সংগঠনগুলোর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে উদীচী শিল্প গোষ্ঠী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, হেলথ সার্ভিস ফোরাম, ডক্টরস ফর হেলথ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সংসদ ভবনের সামনে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ
বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে ‘ফেমিনিস্ট অ্যাক্রস জেনারেশনস’ নামে একটি সংগঠন।
এসময় বিক্ষোভকারীরা জানান, নারীর বিরুদ্ধে পুরুষের সহিংসতা কোনো পৃথক ঘটনা নয়, বরং যে সংস্কৃতি এই ধরনের সহিংসতার বিস্তার ঘটায়, তার বিরুদ্ধে মূলত সোচ্চার হওয়ার জন্য তারা একত্রিত হয়েছেন।
নারীর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারি তৎপরতার প্রতি জোর দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ভুক্তভোগীদের দায়ী নয় বরং অপরাধীদেরই জবাবদিহি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার প্রতি জোর দেন তারা।
এসময় বিক্ষোভকারীরা পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
