কোনোভাবেই চেনারও উপায় নেই এটি ছিল একটি স্কুল। বোমা আঘাতে গুড়িয়ে গেছে ক্লাসরুম। কোনোভাবে টিকে থাকা কংক্রিটের কোনায় জড়ো হওয়ায় শিশুদের পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির পুরো শিক্ষাব্যবস্থা। গুলি ও বোমা আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে স্কুলভবনগুলো।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন শিক্ষা বছর শুরু করলো আরব দেশটির শিক্ষার্থীরা। যে যার মতো পোশাক পরেই প্রথম দিন স্কুলে হাজির তারা।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্কুলের যতটুকু অক্ষত আছে, তাতেই বসে গেল ক্লাস। ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তর শহর তিয়াজের কাছে একটি স্কুলে এমন দৃশ্য দেখা গেল।
স্কুলে নেই কোনো দরজা, নেই জানালা, এমনকি নেই চেয়ার টেবিল বা ডেস্কও। ফ্লোরে বসেই ক্লাস করছে শিশুরা আর এক চিলতে দেয়ালকে ব্ল্যাকবোর্ড বানিয়ে নিয়েছেন শিক্ষকেরা। চলছে পুরোনো বইতেই পাঠদান।
নতুন শিক্ষা বছরে ইয়েমেনের এক তৃতীয়াংশ শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। সেদিক দিয়ে তিয়াজের আল-ওয়েহদাহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সৌভাগ্যবানই বলতে হবে।
২০১৬ সালে বিমান হামলার শিকার হয় স্কুলটি। মাইন পোঁতা এলাকার মাঝখানে আল-ওয়েহদাহর অবস্থান। স্কুলে শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার পথের মাইনগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে দুইপক্ষের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের এ যুদ্ধে মারা গেছে হাজার হাজার লোক, উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।
ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট যোগ দিলে আরও বেশি ভয়াবহতা তৈরি হয়। সৌদি জোটের বিমান হামলায় এ যুদ্ধের হতাহতের ঘটনা বাড়িয়ে তোলে।
