সাভারের আশুলিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ স্বজনের হাতে আফাজ উদ্দিন পালোয়ান নামে এক বৃদ্ধ খুনের অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের ছেলে ও পরিবারের অভিযোগ, জড়িতরা প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করছে। দুই দিন আগে আফাজ উদ্দিন পালোয়ানকে মারধর করা হলেও কোন অভিযোগ নেয়নি পুলিশ।
রবিবার রাতে রাজধানীর শ্যামলী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আফাজ উদ্দিন পালোয়ানকে মারধর করা হয়।
নিহত আফাজ উদ্দিন পালোয়ান (৭৫) ইয়ারপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মৃত রহম উদ্দিন পালোয়ানের ছেলে।
নিহতের বড় ছেলে সাত্তার পালোয়ান অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির পাশে তাদের পৈতৃক জমির ওপর দিয়ে রাস্তা বের করতে চান তাদের স্বজন মজিবর পালোয়ান। এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে আবারও এ বিষয় নিয়ে মজিবর ও তার ভাই মহসিন পালোয়ানের সঙ্গে বিতণ্ডা হয়। এ সময় মজিবর, মহসিন ও রিয়াজসহ বেশ কয়েকজন প্রথমে তার বড় ভাই মুক্তারকে মারধর করে। এতে বাবা আফাজ উদ্দিন বাঁধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় মাটিতে ফেলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে লাথি মারলে গুরুতর অসুস্থ হন তার বাবা। পরে তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার রাতে তার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর থানায় গেলেও কোন অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। মজিবর ও রিয়াজ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। মজিবর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রিয়াজ একই ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর পালোয়ানকে তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ।
অভিযুক্ত একই ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ পালোয়ন বলেন, জমি নিয়ে শুক্রবার মারামারির ঘটনা ঘটলেও তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির জানান, ঘটনার দিন রাতে গিয়ে কাউকে তিনি পাননি। এ সময় তিনি নিহত আফাজ উদ্দিন পালোয়ানের পরিবারের দুই নারীকে তার নম্বর দিয়ে এসেছিলেন। তবে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও পক্ষপাতিত্ব করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, শুক্রবার জমি বিরোধের জেরে দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন পালোয়ান মারা গেছেন। তার লাশ ময়নাতদন্তর জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণের বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।
