১৪ শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ব্যতিক্রমী রায়

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪৪ এএম

জীবনের শুরুতেই সংশোধনাগারে অন্য অপরাধীদের সংস্পর্শে না রেখে পারিবারিক বন্ধনে রেখে সুনামগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত পৃথক ১০ মামলায় অভিযুক্ত ১৪ শিশুকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছে সুনামগঞ্জ শিশু আদালত।

গতকাল বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ শিশু আদালতের বিচারক জাকির হোসেন ওই ১৪ শিশুর প্রত্যেকে এক বছর করে প্রবেশন কর্মকর্তা ও পরিবারের অধীনে রেখে মা-বাবার সেবা করা ও নির্দেশ মেনে চলা, নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসন, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ, ২০টি গাছ লাগানো ও পরিচর্যা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ এবং মাদক সেবন না করাসহ সাত প্রবেশন শর্তে তাদের পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসব শিশু মাদক, জুয়া, মারপিট, দলবদ্ধ সংঘর্ষ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ধর্ষণের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন বিচারকাজ শেষে এ ১০টি মামলায় রায়ের জন্য তারিখ ধার্য ছিল। আদালত এসব মামলায় শিশুদের সংশোধনাগারে অন্য অপরাধীদের সংস্পর্শে না পাঠিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে এমন রায় দেয়।

আদালত রায়ে শিশুদের প্রবেশন দেওয়ার উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করে, ‘পারিবারিক বন্ধনে রেখে শিশুদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং প্রবেশন কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে রেখে শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে অপরাধে না জড়ায় এবং জীবনের শুরুতেই যাতে তাদের শাস্তির কালিমা স্পর্শ না করে সেজন্য শাস্তি না দেওয়া। এছাড়া সংশোধনাগারে অন্যান্য অপরাধীর সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখে পরিবারের তত্ত্বাবধানে তাদের যাতে মানসিক বিকাশ ঘটে এবং শিশুদের সার্বিক কল্যাণ সাধন হয়।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় জানান, ১০টি পৃথক মামলায় ১৪ জনকে এ প্রবেশন শর্তে একজন প্রবেশন কর্মকর্তা ও পরিবারের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার শর্তে এ রায় দেওয়া হয়েছে। শিশুদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের ফেরানোর নজির হয়ে থাকবে এ রায়। এ রায়ের মাধ্যমে শিশুরা তাদের সংশোধনেরও সুযোগ পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত