বিলে অবৈধ বাঁধ, চাষাবাদ বন্ধ ৩০০ হেক্টর জমির

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৯ পিএম

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার শঙ্কা থেকে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় অনাবাদি পড়ে আছে প্রায় ৩০০ হেক্টর কৃষিজমি। মূলত একটি বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে কচুরিপানা আটকে অন্তত চার হাজার কৃষকের জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ এবং মাছের অবাধ বিচরণেও ব্যাঘাত ঘটছে ওই বাঁধের কারণে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখানকার তিন ফসলি প্রতি হেক্টর জমিতে ছয় মেট্রিক টনেরও বেশি ধান উৎপাদন হয়। সেই হিসাবে বিলে বাঁধ দেওয়ার কারণে চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়া জমিগুলোতে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ও রূপসদী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা বাড়িয়াদহ বিলটি দুই বছর আগে স্থানীয় ‘ফরদাবাদ-রূপসদী ধীবর সমবায় সমিতি’র নামে তিন বছরের জন্য ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। সমিতির সদস্য পিছন দাসের নামে নেওয়া ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর কাছে বিলটি সাব-ইজারা দেওয়া হয়।

সাব-ইজারাদাররা মাছ চাষের জন্য বাঁশ ও জাল দিয়ে বাঁধ দেন বিলে। আর ওই বাঁধের কারণে কচুরিপানা আটকে কৃষকদের প্রায় ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে আছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগ।

বাড়িয়াদহ বিলে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ চাষের জন্য অবৈধভাবে বিলের কয়েক কিলোমিটার অংশজুড়ে বাঁশ ও জাল দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন সাব-ইজারাদাররা। এই বাঁধের ভেতরেই মাছ চাষ করা হচ্ছে। আর বাঁধের কারণে বিল সংলগ্ন প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে কচুরিপানা আটকে আছে। এতে করে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। বাঁধ দেওয়ার আগে বিলে বিভিন্ন নৌযান চললেও এখন আর কোনো নৌযান চলাচল করতে পারছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, এক কানি (স্থানীয়ভাবে জমির হিসাব) জমি থেকে কচুরিপানা সরাতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এই টাকা খরচ করে কচুরিপানা সরানোর সক্ষমতা নেই অধিকাংশ কৃষকের। জমিতে চাষাবাদ করতে না পারা কোনো কোনো কৃষক বিলে মাছ ধরতে গেলেও তাদের বাধা দেন ইজারাদাররা।

ফরদাবাদ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুন মিয়া বলেন, বিলের পাশে আমার ১৫ কানি জমি আছে। এই জমিতে প্রায় ৩০০ মণ ধান হয়। শুধু এই বাঁধের কারণে কচুরিপানা আটকে আমাদের জমি এখন চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখন আমাদের কৃষকদের মরার মতো অবস্থা। মাছ চাষ করে তারা, আর ক্ষতি হয় আমাদের।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, গত দুই বছর ধরে এই অবস্থা চলছে।

মূল ইজারাদার ও ফরদাবাদ-রূপসদী ধীবর সমবায় সমিতির সদস্য পিছন দাস বলেন, গত মৌসুমে কৃষকরা ধান চাষ করেছেন। এবার জমিতে আটকে থাকা কচুরিপানা আমরা পরিষ্কার করে দেব।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সারোয়ার বলেন, মৎস্যজীবী সমিতিকে সময় দিয়েছি। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাঁধটি অপসারণ এবং কচুরিপানা পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত