পাওনা টাকা না পেয়ে কক্সবাজারের সদর উপজেলার এক টমটম চালকের কিশোরী মেয়েকে দেড় মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতদের কক্সবাজার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুনিরুল গিয়াস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- খরুলিয়া চেয়ারম্যানপাড়ার আবদুল গনির পুত্র শাহাব উদ্দীন ও তার সহযোগী পেকুয়া উজানটিয়ার আরমান হোসেন, খরস্কুল হাটখোলাপাড়ার নুরুল আলম, পেঁচারঘোনার লোকমান।
ওসি জানান, গত গত রবিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ কল করে মেয়েকে দেড় মাস যাবৎ আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ করে মেয়েকে উদ্ধারে সহায়তা চান ভিকটিমের মা। তিনি অভিযোগ করেন, ৩৫ হাজার টাকা ধার দেওয়ার পর যথাসময়ে ফেরত না পাওয়ায় টাকার পরিবর্তে মেয়েকে জোর পূর্বক আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
অভিযোগ পেয়ে কক্সবাজার মডেল থানার পুলিশ সেদিন দুপুরে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে র্যাব ভিকটিমকে উদ্ধারে মাঠে নামে।
ভিকটিমের মা জানান, তার স্বামী ও মেয়ের বাবার সাথে শাহাব উদ্দিনের টমটম চালাতে গিয়ে সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে শাহাব উদ্দিন তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। এক সময় বিপদে পড়ে শাহাব উদ্দিনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেয় তার স্বামী। কিন্তু টানাপোড়েনের সংসারের সেই টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারেনি।
এ কারণে শাহাব উদ্দিন টমটম চালকের কিশোরী মেয়েকে জোরপূর্বক লোকজন নিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। টাকা ফেরত না দিলে মেয়েকে আর ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দেয় শাহাব উদ্দিন।
মেয়েকে উদ্ধারের জন্য টমটম চালক ও তার স্ত্রী স্থানীয় মেম্বার ও খরুলিয়ার মেম্বার আবদুর রশীদের কাছে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করে। তাতেও মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তারা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য ৯৯৯ ফোন করে সহায়তা চান।
কক্সবাজার মডেল থানা বিষয়টি জানতে পেরে এস আই মনসুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়। অভিযানের খবর আগে থেকে জেনে যাওয়ায় শাহাব উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে চট্টগ্রামের র্যাব-৭ এর একটি দল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ধর্ষক ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে ওইদিন মধ্যরাতে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ওসি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করার পর জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
খরুলিয়ার মেম্বার আব্দুর রশিদ জানান, শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নারী সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।
