যশোরে মধ্যরাতে বিএনপি কার্যালয়-নেতাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১৯ পিএম

যশোরে শনিবার দিবাগত রাতে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ শীর্ষ নেতাদের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলাকারীরা বিএনপি কার্যালয়ে তালাও লাগিয়ে দেয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে তিনটা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা একাধিক প্রাইভেটকার, ২০টির অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে ইট-পাটকেল ছোড়ে, ভাঙচুর ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এতে করে ওই মধ্যরাতে নেতাদের পরিবারের শিশু সন্তানসহ নারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা নৌকার পক্ষে স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের মাঠে না নামার জন্য হুমকি দেয়।

হামলা চালানো হয়েছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্যসচিব অ্যাড. সাবেরুল হক সাবু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, আনিচুর রহমান মুকুল, গোলাম রেজা দুলু ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুর বাড়িতে ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে।

জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক এসকেন্দার আলী জনি জানান, রাত ২টার দিকে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ায়।

এ সময় তিনি (জনি) উপনির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা থেকে ভোটার জন্য স্লিপ তৈরির কাজ শেষে বের হন। মোটরসাইকেল আরোহীরা তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলে, ‘তোকে চার খণ্ড করে ফেলবো, ভোট করা বের করছি’।

আর ২০টি মোটরসাইকেল ও দুইটি প্রাইভেটকার এসে দাঁড়ায় এবং আরোহীরা নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর করে। তারা ভোটার তালিকা ও স্লিপ নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কার্যালয়ের দুই প্রবেশ পথের দরজায় তালা লাগিয়ে যায়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, এ তাণ্ডবের সময় যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ফোন দিয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেননি। শুধু বলেন, আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি।

খোকন আরও বলেন, এ সরকারের আমলে সব নির্বাচনেই এমনটা হচ্ছে। এ নির্বাচনেও তাই হল। বিএনপি নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করে নির্বাচন ভোটার শূন্য করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ এ তাণ্ডব  চালিয়েছে। এতে আমরা হতাশ হইনি। ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো আমরা।

এদিকে বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার।

তিনি বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। আমার ধারণা এটা বিএনপির পাতানো খেলা। নির্বাচন আসলেই বিএনপি আগাগোড়া এমন করে, ভোটে পাস করতে পারবে না জেনে তারা এমন করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়। তারা এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার জাতীয় সংসদের যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এ কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবর ভোট গ্রহণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত