ভাসমান শ্রমিকের বেশে দূর্গার ত্রাণের জন্য আকুতি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩১ পিএম

করোনা মহামারি চলাকালে বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। দেশটিতে লকডাউন ঘোষণার পর বিপদে পড়ে ভাসমান শ্রমিকরা। দেশটির এই ভাসমান শ্রমিকদের দুর্দশার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপূজার মূর্তিতে।  

শিল্পীর কল্পনায় সেখানে ভাসমান শ্রমিকদের ঘরের বধূর বেশে ত্রাণভিক্ষা করতে হাজির হয়েছেন দুর্গা। তার কোলে কার্তিক। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশকে নিয়ে মণ্ডপে দাড়িয়ে রয়েছেন দুর্গা। যদি ত্রাণ পাওয়া যায়! কিন্তু তাকে থমকে দাঁড়াতে হয়েছে ভাসমান শ্রমিকদের মতোই। জবাব দিতে হচ্ছে প্রশ্নের— কোথায় যাচ্ছেন? কী দরকার? উত্তরে শ্রমিকের বধূর মতো বলছেন, ‘মায়ের কাছে যাচ্ছি গো। ত্রাণ নিতে। ত্রাণ দেবে গো?’ মায়ের সঙ্গেও লক্ষ্মী, সরস্বতী বলে উঠছেন, ‘ত্রাণ নিতে গো।’

শিল্পী রিন্টু দাস ভাসমান শ্রমিকদের দুর্দশার এই ছবি তৈরি করেছেন প্রতিমা এবং তার সঙ্গে শব্দের মায়াজাল বুনে। পূজামণ্ডপে ঢোকার মুখে ঘোষণা শোনা যাচ্ছে, ‘আজ বিকেলে ত্রাণ দেওয়া হবে। ত্রাণ পাবেন। আসুন-আসুন।’

শিল্পী রিন্টু দাস বলেন, এই ছবিই তো দেখা গিয়েছিল শহর থেকে গ্রামের আনাচেকানাচে। দেশজুড়ে। খিদের জ্বালায় লম্বা লাইন দিতে হয়েছিল তাদের। সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

image

করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর পূজা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন বড়িশা ক্লাবের সদস্যরা। শিল্পী রিন্টু যখন তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এ বার থিমের জন্য বেশি টাকা খরচ করা যাবে না। কারণ, ভাসমান শ্রমিকদের ত্রাণ দিতেই বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আর্ট কলেজের ছাত্র, কলকাতার থিম পূজায় পরিচিত মুখ রিন্টু শনিবার তাদের বলেছিলেন, ভাসমান শ্রমকিদের নিয়ে তিনি এ বারের পূজার থিম ফুটিয়ে তুলতে চান। যে চাল গরিব মানুষকে দেওয়া হয়েছে, তার বস্তাগুলি দিলেই তার কাজ হয়ে যাবে। গত কয়েক বছর ক্লাব তাকে পরিশ্রমিক দিয়েছে। এ বার তার ক্লাবকে কিছু দেওয়ার পালা।

রিন্টুর তত্ত্বাবধানে শিল্পী পল্লব ভৌমিক দুর্গার মূর্তি বানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তার স্টুডিওতে। দূর্গার অবয়ব ঠিক ঘরের মেয়ের মতো। সনাতনী মূর্তির বদলে বাস্তবানুগ করা হয়েছে। সঙ্গে সন্তানসন্ততিরা। পরনে শাড়ি রয়েছে। কিন্তু শিল্পী তাতে রঙ দেননি। সে শাড়ির রং মাটির। তাতে মাটির ছোঁয়া। মাটির গন্ধ। আমজনতার যেমন হয়।

শিল্পীর মতে, বেরঙিন এই শাড়ি হলো আসলে ভাসমান শ্রমিকদের হয়ে ‘প্রতিবাদ’।

পূজা কমিটির সভাপতি সুদীপ পোল্লে বলেন, এ বছর আমাদের কিছুই করার ছিল না। বাজেট নেই। তার উপর লকডাউনের সময় আমরা প্রায় প্রতিদিনই ত্রাণ দিয়েছি অভাবী মানুষকে। রিন্টুকে আমরা ৫,০০০ খালি বস্তা দিয়েছিলাম। তাতেই উনি কম বাজেটে এত ভালো পূজার থিম উপহার দিয়েছেন। পূজার সময়ও আমরা গরিব মানুষকে ত্রাণ দেব প্রতিদিন।

সূত্র: আনন্দবাজার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত