করোনা পরিস্থিতিতে দুইবার পেছানোর পর অবশেষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলিভিয়ায়। বুথ ফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের প্রার্থী লুইস আর্স।
বিবিসি জানায়, রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও রবিবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছে বলিভিয়ার মানুষ।
গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে সেনাসমর্থনে ডানপন্থীদের বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হন ইভো মোরালেস। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা সংস্থা জানায়, ওই নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি ছিল না।
ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর দেশটির আদিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোরালেস আর্জেন্টিনায় আশ্রয় নেন। সহিংসতায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ৩৬ জন।
এমন রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে জনগণ নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা দুইবার পিছিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মোরালেস তার দল মুভমেন্ট টুয়ার্ড সোশ্যালিজম (এমএএস) পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করেন লুইস আর্স। নির্বাসিত থাকায় গত ২০ বছরে এটিই প্রথম নির্বাচন যাতে অংশ নেননি মোরালেস।
মোরালেস সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আর্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মধ্যপন্থী জোটের নেতা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেসা।
এদিকে গবেষণা সংস্থা সিজমোরি এক বুথ ফেরত জরিপে জানিয়েছে, নির্বাচনে ৫২.২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন আর্স। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেসা পেয়েছেন ৩১.৫ শতাংশ ভোট।
প্রেসিডেন্ট হতে নির্বাচনে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেতে হবে যে কোনো প্রার্থীকে। অথবা ৪০ শতাংশ ভোট পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে ব্যবধান থাকতে হবে ১০ শতাংশ। অন্যথায় দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে লড়তে হবে দুই প্রার্থীকে। এদিক দিয়ে প্রথম দফা নির্বাচনেই আর্সের জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক কোনো ফলাফল ঘোষণায় যাবে না। পরিপূর্ণ ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা হবে।
রবিবার প্রেসিডেন্ট ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের ১৬৬ জন সদস্য নির্বাচন করতে ভোট দেয় বলিভিয়ার মানুষ।
