ছেলেদের অত্যাচার থেকে বাঁচার আকুতি বৃদ্ধের

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৮ পিএম

মারধর করে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগে ছেলের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন এক বৃদ্ধ পিতা।

মো. জহিরুল হক নামে ওই বৃদ্ধ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ছেলেদের বিচার চেয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, পুলিশের কাছেও একাধিকবার নালিশ করেছেন। সর্বশেষ মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও ছেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজারের কামারজুরি এলাকার বাসিন্দা জহিরুল হক জানান, ২৭ বছরে প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চাকরির সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ২০০৭ সালে ওই এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি কেনেন। তাতে আধাপাকা একটি বাড়ি তৈরি করে ছেলে একরামুল হক (৪৬) ও আনোয়ার হোসেনসহ (৪৪) পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। চাকরি থেকে অবসরের সব টাকাও বড় ছেলে একরামুল ব্যবসার কথা বলে কৌশলে আত্মসাৎ করে। এরপর থেকে শেষ সম্বল বাড়িটি লিখে নেওয়ার জন্য ছেলেরা বাবা ও মায়ের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। ২০১৭ সালে তাদের মা বাদী হয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় ছেলেরা জেল খেটে বের হয়।

জহিরুল জানান, ২০১৮ সালে ছেলেদের মায়ের মৃত্যু পর থেকে বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্য তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়িয়ে দেয় ছেলেরা। একপর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে ছোট মেয়ের ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেখানে গিয়েও ছেলেরা তাকে এবং তার মেয়েকে মারধর করে। এ ঘটনার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানায় একটি মামলা করেন তিনি। এর কিছুদিন পর জহিরুল হক জানতে পারেন তার দুই ছেলে আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছে। পরে একই থানায় জাল দলিলের বিষয়ে এজাহার দাখিল করেন তিনি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়িটি বুঝে পান।

লিখিত বক্তব্যে ৭০ বছর বয়সী জহিরুল হক আরও জানান, বড় ছেলে একরামুল হক এখনো এসে তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি গাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। শেষ বয়সে ছেলেদের হাতে যেন আর নির্যাতনের শিকার না হতে হয় এবং আশ্রয়টুকু হারাতে না হয় সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত