রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ফের বিপুল পরিমাণ জাল টাকা, জাল ডলার ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। গত শুক্রবার রাজধানীর কোতোয়ালি, আদাবর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মামুন, মোছা. শিমু, কাজী মাসুদ পারভেজ, মো. রুহুল আলম, মো. সোহেল রানা ও মো. নাজমুল হক। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশি জাল নোট (প্রতিটি ১০০০ টাকার নোট), ১১৩টি জাল ডলার (প্রতিটি ১০০ ডলার নোট), দুই বান্ডিল ছাপানো জাল টাকার কাগজ, একটি ল্যাপটপ, দুটি স্ক্যানার, একটি লেমিনেটর, দুটি প্রিন্টার, ১২টি ট্রেসিং প্লেট, ৫ রিম জাল টাকা ছাপানোর কাগজ, জাল টাকা ছাপানোর জন্য বিভিন্ন রংয়ের ৮ বোতল কালি, জাল টাকা তৈরির সময় টাকার ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সিল ও একটি এফ প্রিমিও প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গড়ে তোলা কারখানা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি গুলশান বিভাগের গাড়ি চুরি এবং সংঘবদ্ধ টিম। তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৫ কোটি জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চলতি মাসে আমরা জাল টাকা তৈরির তিনটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, গত শুক্রবার রাজধানীর কোতোয়ালি আদাবর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাল ডলার ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। তারা দীর্ঘ ৫-৬ বছর যাবৎ পরস্পর যোগসাজশে জাল নোট প্রস্তুত করে খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রি করত। তারা বড় কোনো উৎসব যেমনঈদ, দুর্গাপূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে জাল টাকা সরবরাহ এবং বিক্রি করত। চক্রটি ১ লাখ টাকার জাল নোট ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। তারা জাল ডলার তৈরিতেও পারদর্শী। তাদের তৈরিকৃত ডলার আসল না নকল তা সহজে বোঝা যায় না। তিনি আরও জানান, এই পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড কাজী মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার হয়ে বের হয়ে এসেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে স্পেশাল অ্যাক্টে মামলা করব যেন সে সহজে বের হয়ে আসতে না পারে।’
ডিএমপির গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) গোলাম মোস্তফা রাসেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চক্রের হোতা মাসুদ পারভেজ এক সময় বিডিআরের সিপাহি ছিলেন। ২০০৪ সালে তার চাকরি চলে যায়। এর কিছু দিন পর সে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। তার নামে বে-নামে অনেক সম্পদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে যশোর ও সাতক্ষীরায় প্রতারণার মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
