ঘন ঘন ফেরি বিকল, নাব্যতা সংকট, ঘাট সমস্যার পাশাপাশি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ অচলাবস্তার প্রভাবে বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে স্বাভাবিক ফেরিপারাপার ব্যাহত হচ্ছে। মাত্র তিন কিলোটিার দীর্ঘ ওই নৌপথ পাড়ি দিতে এসে গাড়িগুলো ফেরির নাগাল পেতে উভয় ঘাটে আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
রবিবার দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে ঢাকাগামী শত শত বিভিন্ন গাড়ি। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক ও কার্ভার্ড ভ্যানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে সৃষ্ট যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর থানার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দৌলতদিয়া ঘাটগামী অপচনশীল পণ্যবোঝাই বহু ট্রাক আটকে রেখেছে জেলা ট্রফিক পুলিশ। ঘাট পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ওই ট্রাকগুলো সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই নৌপথে চলাচলকারি ফেরিগুলো বহু দিনের পুরনো। সার্বক্ষণিক সচল রাখতে গিয়ে ইঞ্জিন সমস্যাসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। এ কারণে সেখানে লেগে থাকা ফেরির সংকট সহসা কাটছে না। বর্তমানে খানজাহান আলী নামের একটি রোরো (বড়) ফেরি এবং অপর একটি কে-টাইপ ফেরি কেতকী বিকল হয়ে আছে। পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে ওই ফেরি দুটির মেরামত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফেরি সচল না থাকায় সেখানে স্বাভাবিক ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে চারটি ও পাটুরিয়া প্রান্তে চারটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। কিন্তু ঘাটগুলোর অধিকাংশ পন্টুন অনেক পুরনো। এ কারণে র্যামের কব্জা ভেঙে বিভিন্ন পন্টুনের পকেটপথ প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। পরে জোড়াতালি দিয়ে কোনরকমে সেগুলো সচল রাখা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে অপচনশীল পণ্যবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলো সাময়িকভাবে আটকে রেখে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। বিকল ফেরিগুলো মেরামত শেষে বহরে ফিরে আসার পাশাপাশি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ সচল হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
