ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামানের কামারপাড়ার রানাভোলার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর রবিবার এক সমাবেশে এ অভিযোগ করেন।
তুরাগ থানা বিএনপির সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, সিসি ক্যামারা ফুটেজে দেখা যায় রাত ১টার দিকে একদল যুবক মোটরসাইকেল থেকে নেমে ওই বাড়ি লক্ষ করে ডিম, ইটপাটকেল, মূল ফটকে কাঠ ছুড়ে মারছে। মোস্তফা জামান ওই বাড়িতে বসবাস না করলেও তার মা থাকেন বলে জানান ।
রবিবার সকালে মোস্তফা জামানের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এস এম জাহাঙ্গীর। সেখানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হাসিনার দল রাতের আঁধারে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাব আমরা ১২ নভেম্বর ভোটের মাধ্যমে দেব। আমাদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়, প্রয়োজনে পাল্টা হামলা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ থাকতে চাই। অশান্তি ডেকে আনবেন না, কারো জন্যই মঙ্গল হবে না।
এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, প্রশাসনকে বলত চাই, আমরা শান্তিপূর্ণ জনতা, শান্তিতে থাকতে চাই। আপনারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপারগুলো দেখবেন। আমি রাতে ফোন করেছি, ভিডিও ফুটেজ আছে, দেখে যদি ব্যবস্থা না নেন আমরা অন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হামলা-মামলা করে আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবেন না। আমরা নির্বাচন করতেছি, নির্বাচন করব।
জাহাঙ্গীরের সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেন, রাতের বেলা কেন? দিনের বেলা আসেন। দেখিয়ে দেব কার কত শক্তি। রাতের বেলা কাপুরেষের মতো হামলা করে ভয় দেখানো যাবে না।
এরপর বেলা ১১টায় তৃতীয় দিনের মতো ধানের শীষের পক্ষে উত্তরখান আটিপাড়া বাজার থেকে গণসংযোগ শুরু করেন জাহাঙ্গীর।
সেখানে তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ যতই ভয়ভীতি দেখাক, আপনারা ১২ নভেম্বর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট স্বাধীনভাবে পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দেবন। মনে রাখবেন, আমার-আপনার লড়াই হচ্ছে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার লড়াই, সন্ত্রাস-ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই। অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই। এ লড়াইয়ে আমাদের জয়লাভ করতে হবে। তা না হলে দেশের মা-বোন, আমি আপনি কেউ নিরাপদে ঘরে থাকতে পারব না।
এরপর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে হেলাল মার্কেট, চামুরখান, মৈনারটেক, মাস্টার বাড়ি, আটিপাড়ায় গণসংযোগ করেন এস এম জাহাঙ্গীর।
