বাবাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে জানতে পেরে কথা বলছে না জুয়েলের ছেলে

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৯ পিএম

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননা অভিযোগ এনে গণপিটুনি দিয়ে পুড়িয়ে মারা মানসিক ভারসাম্যহীন রংপুরের মো. শহীদুন্নবী জুয়েলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার পরিবারের লোকজন এ মৃত্যুকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না।    

এদিকে, রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. আসিব আহসান শনিবার জুয়েলের বাসায় গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সান্ত্বনা ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেন।         

নিহত জুয়েলের এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আরবার জুয়েল প্রথমে তার বাবার মৃত্যুর খবর না পেলেও এখন সে বুঝতে পেরেছে তার বাবা আর নেই। বাবার সাথে নিয়মিত মসজিদে যেতো ছেলে আরবার জুয়েল। কিন্তু তার বাবাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে এ কথা শুনে ১০ বয়সী আরবার নিথর হয়ে পড়েছে। কারও সঙ্গে কোন রকম কথা বলছে না। তার বাবাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে এটা সে কোন ভাবে মেনে নিতে পারছে না।

কথা হয় নিহত জুয়েলের মেয়ের সাথে, সে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টিভিতে তার বাবাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে দেখে সে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে।

জুয়েলের স্ত্রী বুঝতে পারছেন না তার স্বামীকে কেন এবং কীভাবে পুড়িয়ে মারতে পারল মানুষ। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে যারা মিথ্যা অভিযোগ তুলে পবিত্র কোরআন অবমাননার দায়ে পুড়িয়ে মারল, তাদের যেন কঠিন শাস্তি হয়। এই প্রতিবেদককে এ কথা বলেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান।

নিহত মো. শহীদুন্নবী জুয়েল রংপুর নগরীর শালবন এলাকার বাসিন্দা ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তিনি রংপুর জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সায়েন্স বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রধান লাইব্রেরিয়ান হিসেবে চাকরি করতেন তিনি। এক বছর আগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তার চিকিৎসা চলছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল মানসিক চিকিৎসক ডাক্তার রফিকুল ইসলামের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা নিতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত