মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অগ্নিঝুঁকিতে বহুতল ভবনগুলো

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০২:৫৪ এএম

এক দশক আগে রাজশাহী শহরে বহুতল ভবন ছিল হাতেগোনা। এখন বহুতল ভবনের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। প্রত্যেক মাসেই হচ্ছে নতুন নতুন ভবন। সর্বোচ্চ ১৯ তলা ভবনও হয়েছে। অথচ রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ চারতলা ভবনের আগুন নেভাতে সক্ষম। এতে করে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছেন।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (আরডিএ) তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী নগরীতে বহুতল বলতে শুধু সিঅ্যান্ডবি মোড়ের জীবন বীমা করপোরেশনের ১০ তলা ভবন ছিল। ২০০৯ সাল থেকে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। বিগত কয়েক বছরে ১০ তলা ভবনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অর্ধশতাধিক। নগর ভবন, এর আশপাশের চারটি, সাহেববাজারে ১০টি, আলুপট্টির মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, সাগরপাড়া, উপশহর, বর্ণালীর মোড়, আমবাগান, তেরোখাদিয়া, সিপাইপাড়া, কাজীহাটা ও পদ্মা আবাসিক এলাকাতেও গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন।

২০১৩ সালে নগরীতে মোট ৬০০টি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে এক থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত ৫৬৫টি এবং ছয়তলার অধিক ৩৫টি। ২০১৪ সালে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫০২টি। এর মধ্যে ছয়তলার বেশি উঁচু ভবন ৩৫টি। আর ২০১৫ সাল থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫৪টি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে বহুতল ভবন রয়েছে ৩৩টি। সবমিলে বর্তমানে রাজশাহী শহরে দুই শতাধিক বহুতল ভবন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরডিএর অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ।

নগরীতে বহুতল ভবন বাড়লেও এগুলোতে আগুন বা দুর্ঘটনা মোকাবিলার ব্যবস্থাপনা নেই। অধিকাংশ ভবনের মালিক ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ভবনগুলোর নিজস্ব যে ব্যবস্থাপনা থাকার কথা, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় কার্যালয় হওয়া সত্ত্বেও রাজশাহীতে নেই বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ গাড়ির লেটার উঠতে পারে ৩০-৩৫ ফিট বা তিনতলা পর্যন্ত। বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রথম ২০০৫ সালে ৬৫০০ লিটার পানিবাহী গাড়ি যুক্ত হয়। ২০১০ সালে ১১ হাজার লিটার পানিবাহী বিশেষ গাড়ি, পানিবাহী ফোস টেন্ডার ও ২০১১ সালে যুক্ত হয় রেসকিউ টেন্ডার। এরপর ২০১৩ সালে যুক্ত হয় ৪৮০০ লিটার পানিবাহী হিনো-৪। এরপর সাত বছর পার হলেও নতুন কোনো গাড়ি যোগ হয়নি। বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সোনারকেল ও টিটিএল দরকার পড়লেও তা একটিও নেই।

রাজশাহী বিভাগীয় ফায়ার সর্ভিসের উপপরিচালক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাততলা থেকে বহুতল ভবন শুরু হয়। রাজশাহীতে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতা বাড়লেও কেউই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নিচ্ছে না। ফলে ভবনগুলো বসবাসের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের অনুমোদন নিতে হলে ভবন কর্র্তৃপক্ষকে ৩০-৩৫টি শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব ঝামেলা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি না নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভবন ব্যবহার করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বহুতল ভবনের আগুন নেভানোর মতো সরঞ্জাম আমাদের নেই। সোনারকেল ও টিটিএল থাকলে বাইরে থেকে ১০-১৫ তলার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘রাজশাহী নয়, সারা দেশেই সোনারকেল ও টিটিএলের সংকট রয়েছে। আমরা নতুন করে এগুলোর চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। শিগগিরই ৬-৭টি সোনারকেল ও টিটিএল পাওয়া যাবে। তখন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়েও পাঠানো হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত