হেফাজতের নূর হোসাইন কাসেমীকে ধন্যবাদ দিলেন রানা দাশগুপ্ত

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩১ পিএম

লালমনিরহাট ও কুমিল্লার ঘটনায় উদ্বেগ জানানো এবং ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা নূর হোসাইন কাসেমীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

শনিবার সকালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে রানা দাশগুপ্ত নূর হোসাইন কাসেমীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরশু এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মানবাধিকার বিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকারকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। লালমনিরগাট ও কুমিল্লার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। সুনিপুন তদন্তের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

সংখ্যালঘুর ওপর হামলা নির্যাতনের বিচার অবিলম্বে না হলে চট্টগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ করা হবে বলেও গণঅবস্থান থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।   

রানা দাশগুপ্ত বলেন, যে অত্যাচার-নির্যাতনের কথা বলেছি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার চাই, তদন্ত চাই। যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দিক- এটি চাই। মিথ্যা অভিযোগে যারা গ্রেপ্তার তাদের কারাগার থেকে মুক্তি চাই। যারা হ্যাকার তাদের শাস্তির আওতায় আনা চাই।

তিনি বলেন, যদি সরকার দাবি না মানে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি ঘোষণা করব। প্রয়োজনে লং মার্চের মত কর্মমসূচি দিব। পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাব।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী-নেতাকে আমাদের আর বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কারণ তারা যা বলেন তা করেন না, যা করেন তা বলেন না। সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় আপনি অনেকবার অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উপর থেকে পানি ফেলেছেন কিন্তু সেই পানি নিচের দিকে দেখা আমরা পাইনি। কারণ আপনার দলের ভেতর দল আছে, আপনার প্রশাসনে পাকিস্তান আছে।

শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত গণঅবস্থানে নগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

image

২০১০ সালের পর থেকে রামু নাসিরনগর হয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই- কোনো রাজনৈতিক দলের এসব ঘটনায় প্রতিবাদ বা প্রতিরোধমূলক কোনা ভূমিকা লক্ষ্য করিনি। ১৯৬৪ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলকে বিভ্রান্ত করতে আইয়ুব খান যখন সংখ্যালঘুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রাজনৈতিক নেতা যারা পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাদের নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়েছিল। ‘বাঙালি রুখিয়া দাঁড়াও’ প্রচারপত্র বিলি হয়েছিল। আজ সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব কই?

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, আমাদের সংবিধানে যে পরিবর্তন এসেছে সেটিকে আমরা স্বাধীনতার চেতনায় ফেরাতে পারিনি। আজ রাজনীতি ও সমাজে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা থেকে আজ আমরা অনেক দূরে।

অধ্যাপক জিন বোধী ভিক্ষু বলেন, আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফিরতে চাই। আজ কেউ ভালো নেই। আপনারা কী আমাদের কথা শুনতে পাচ্ছেন না? সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উপর অবিচার হচ্ছে। নির্যাতন হামলার বিচার না হলে আমরা আপনাদের পাশ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হব।

কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিষদ নেতা চন্দন তালুকদার, শ্যামল কুমার পালিত, অশোক দাশ, ব্রহ্মচারী গদাধর দাশসহ পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত