হল খুললেও ছবি মুক্তি দিচ্ছেন না প্রযোজকরা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:১৫ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়া হলেও সিনেমা মুক্তি দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না চলচ্চিত্র প্রযোজকরা। ফলে দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সিনেমা হল স্থায়ীভাবে বন্ধের আশঙ্কা করছেন মালিকরা। চলমান সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। তবে প্রযোজকরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে হলে দর্শক আসছেন না। ফলে সরকার ভর্তুকি না দিলে সিনেমা মুক্তি দিয়ে তাদের লোকসান গুনতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আজ সোমবার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বৈঠকের কথা থাকলেও গতকাল রবিবার তা স্থগিত করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৬ অক্টোবর সরকার সিনেমা হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এর পর থেকে হিরো আলম প্রযোজিত ‘সাহসী হিরো আলম’ ও মাসুদ হাসান উজ্জল পরিচালিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ ছাড়া আর কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। বর্তমানে প্রযোজকদের হাতে দুই ডজনের বেশি সিনেমা থাকলেও লোকসানের শঙ্কায় তা মুক্তি দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার শর্তে সরকার হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। টিকিটের মূল্য বাড়েনি। বাড়লে অবশ্য মানুষ হলে আসবে না। তাহলে হলের অর্ধেক আসনের ভর্তুকি কে দেবে? প্রযোজক নাকি হল মালিক? এক কোটি টাকা খরচে বানানো সিনেমা মুক্তি দিয়ে কোনো প্রযোজকই লোকসান গুনতে চাইবেন না। আমার জানা মতে, প্রযোজকরা ২৫টির বেশি সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সাহস পাচ্ছেন না।’

সরকারের কাছে ভর্তুকি প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে সিনেমা হল খোলার সিদ্ধান্তের আগেই আমরা প্রদর্শক সমিতির প্রশাসকের মাধ্যমে সংকটগুলো জানাতে চেয়েছি। কিন্তু আমাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সিনেমা মুক্তির আগে আমাদের কিছু বক্তব্য রয়েছে। এগুলো সরকারকে শুনতে হবে। তাহলে হয়তো চলমান সংকটের কোনো সুরাহা হতে পারে।’

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, ‘প্রযোজকরা সিনেমা মুক্তি না দিলে হল খুলে রেখে লাভ কী? আমরা বিষয়টি তথ্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেব। আশা করছি, উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সরকার একটি পথ বের করবে।’

রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘সিনেমা না থাকলে হল চলবে কী করে? বন্ধ হতে হতে দেশে সচল সিনেমা হল হাতেগোনা। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, কেউই আর হল চালু রাখবে না। ভালো সিনেমা মুক্তি দেওয়া না হলে স্থায়ীভাবে হল বন্ধ হয়ে যাবে। প্রয়োজনে ভারতসহ বিদেশি সিনেমা মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ হল বাঁচলে সিনেমা শিল্প বাঁচবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত