লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন ফারিয়া শাহরিন। তিনি এখন ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ। মাঝে কিছু বিরতি শেষে এই অভিনেত্রী আবারও সরব হয়ে উঠেছেন। ফারিয়ার জন্মদিনে কথা হলো তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
জন্মদিন কেমন কাটছে?
এখন যেহেতু করোনার প্রাদুর্ভাব রয়েছে তাই জন্মদিন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করিনি। সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠেছি। বাসাতেই মায়ের কাজে সহায়তা করেছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ডের পুরো ফ্যামিলির করোনা। ফলে বন্ধুদের নিয়েও জন্মদিনের কোনো পরিকল্পনা করিনি। পরিবারের সদস্য ও খুব কাছের মানুষদের নিয়েই সময় কাটাচ্ছি। বলতে পারেন খুব সাদামাটা একটা জন্মদিন পালন করছি।
অনেক দিন পর আবার সরব হয়েছেন। কাজের খবর জানতে চাই…
অনেক দিন পর আবারও কাজে নিয়মিত হলাম। আগে তো তেমন কাজ করতাম না। এ ছাড়া দেশেও ছিলাম না। দেশে ফেরার পর এবারই প্রথম একটু বেশি কাজ করা হচ্ছে। নাটকটাই বেশি করা হচ্ছে। টিভিসিও করলাম। দু-একটা কাজ রানিং চলছে। আরটিভির একটা কাজ করলাম, পরিচালক তারেক রহমানের দুইটা কাজ হাতে আছে। কাজী সাইফের পরিচালনায় একটা কাজ করছি। এই মাসেই কাজগুলোর পরিকল্পনা করেছি।

ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ফিল্ম বা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কিনা?
ওয়েব সিরিজ বা ওয়েব ফিল্মে কাজ করার অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু মনমতো স্ক্রিপ্ট পাইনি। সে জন্য কাজ করা হয়নি। এ ছাড়া সম্প্রতি একটা সিনেমার কাজ নিয়ে কথা হচ্ছিল। কিন্তু স্ক্রিপ্ট পছন্দ হয় নাই। ভালো কাজ তো সবাই করতে চায়, কিন্তু ভালো কাজ পাওয়ায় তো মুশকিল।
কি ধরনের সিনেমা করতে চান?
বাণিজ্যিক বা আর্টফিল্ম বলে বিষয়টাকে আলাদা করতে চাই না। আমি মূলত গল্প নির্ভর চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। ভালো স্ক্রিপ্ট, ভালো ডিরেক্টর পেলে অবশ্যই কাজ করব।

নাটকের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনার পর্যালোচনা জানতে চাই…
আমার মনে হয় আগের চেয়ে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন অনেক ভালো। তবে আমার মনে হয়, ভালো গল্পের অনেক অভাব। প্রচুর কাজ হাতে আসে, কিন্তু বেশিরভাগই সাদামাটা গল্পের। ভালো গল্প পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। আমার মনে হয় গল্পের ব্যাপারটা নিয়ে পরিচালক প্রযোজক লেখকদের আরও ভাবতে হবে। আরও স্ট্রং গল্প পেলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আরও এগিয়ে যাবে। আরেকটা ভালো দিক হচ্ছে এখন অনেক শিক্ষিত পরিচালকরা কাজ করছেন। এটা একটা ভালো দিক। মাবরুর রশিদ বান্নাহ, অমি রহমান পিয়াল, মিজানুর রহমান আরিয়ানের মতো কিছু পরিচালক খুব ভালো কাজ করছেন। এরা আসার পর নাটকের মান অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া পুরোনো আরও অনেক গুণী নির্মাতারাও ভালো ভালো কাজ করছেন। বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের নির্মাতারা আসায় নাটকের একটা অন্যরকম চেঞ্জ এসেছে।

কাজ করতে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় কিনা?
কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হইনি। তবে একটা সমস্যা মাঝে মাঝে ফেস করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে, কাজটা শেষ করতে না পারলে শুটিং ফেসে যাবে। তখন বাড়তি সময় দেওয়া ছাড়া কোনো উপায়ও থাকে না। তো এ রকম কিছু মুহূর্তে দেরি হয়ে যায়, কখনো কখনো অনেক রাতে বাসায় ফিরি। তখন পরিবারের বকা শুনতে হয়। কারণ পরিবার বেশি রাতে বাসায় ফেরা পছন্দ করে না। আর এখন তো সমস্যা হচ্ছে না। এখন ভালোভাবেই কাজ করছি।

নিজের কাজে নিজে তৃপ্ত কিনা?
আমার পরিবার বা ফ্রেন্ডরা আমার অনেক কাজেরই সমালোচনা করেন। তো সব বিবেচনায় আগের চেয়ে আমার কাজের অনেক উন্নতি হয়েছে। যদিও নিজেরটা নিজে বলা ঠিক না, তবে আমার মনে হয় আমি আগের চেয়ে আরও ইমপ্রোভ করেছি, ভবিষ্যতে আরও ইমপ্রোভ করতে হবে। ক্যারিয়ারের স্বার্থেই আরও উন্নতি করা দরকার।
