ডাকাতদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার!

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪১ পিএম

সোনাগাজীতে পুলিশকে ডাকাত ধরতে সহযোগিতা করা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফেঁসে গেছেন ডাকাত সর্দারের জবানবন্দিতে। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বাবু। ডাকাতের জবানবন্দিতে বাবুর নাম আসায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

মঙ্গলবার মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারকরে ফেনীর আদালতে সোপর্দ করেন। তিনি উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সফরপুর গ্রামের বাঘ বাড়ির বাসিন্দা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই আমিরাবাদ ইউনিয়নের চর কৃঞ্চজয় গ্রামের আবুল কাশেমের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় আবুল কাশেমের ছেলে শাহপরান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০/১৫  ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাইফ উদ্দিন দুই ডাকাত শাখাওয়াত হোসেন রিংকু ও আব্দুল হাই প্রকাশ মিয়াকে ধরতে শরিফুল ইসলাম বাবুর সহযোগিতা চায়।

পুলিশ জানায়, বাবু প্রথমে আমি রাজি না হলেও পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজি হয়। কয়েক দিন পর বাবুর তথ্যে ও উপস্থিতিতে পুলিশ শাখাওয়াত হোসেন রিংকুকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অন্য ডাকাতের সঙ্গে বাবুর নামও উল্লেখ করেন। ।

শরিফুল ইসলাম বাবুর বক্তব্যকে সমর্থন করে মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাইফ উদ্দিন বলেন, শাখাওয়াত হোসেন রিংকু চিহ্নিত ডাকাত। তাকে ধরতে সহায়তা করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুর নাম বলে দেয়। আমার তদন্তে বাবুর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আমিরাবাদ ইউনিয়নের চর কৃঞ্চজয় গ্রামের আবুল কাশেমের বাড়িতে ডাকাতির মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন উপপরিদর্শক সাইফ উদ্দিন। তিনি বেসিক ইন্টেলিজেন্স কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ঢাকা গেলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সোনাগাজী মডেল থানার তখনকার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। তিনি গত ১৯ সালের ৩০ মার্চ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও আসামি ছিলেন না শরিফুল ইসলাম বাবু। বাদীর আইনজীবীর আপত্তির প্রেক্ষিতে আদালত সোনাগাজী মডেল থানাকে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের আদেশ দেয়। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা গত বছরের ১ মে শরিফুল ইসলাম বাবুসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনায় জড়িত হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করলে বাদীর আইনজীবী পুনরায় আদালতে আপত্তি জানায়। আদালত আপত্তি আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পিবিআই ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে পিবিআই ফেনীর উপপরিদর্শক গোলাম কবির চলিত বছরের ৫ জুলাই ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে ফেনীর আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সোনাগাজী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফারুক হোসন জানায়, শরিফুল ইসলাম বাবু সর্বমহলের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। পুলিশকে সহযোগিতা করা তার জন্য কাল হয়েছে। তিনি তার দ্রুত মুক্তি কামনা করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী বাবুর বিষয়ে একই রকম অভিমত ব্যক্ত করেন।

মামলার বাদী শাহ পরান প্রবাসে অবস্থান করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত