চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দীর্ঘ সময় ঝিমিয়ে থাকার পর অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ।
বুধবার বিকাল ৩টায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠান পরিণত হয় বড় সমাবেশে। শেষে নেতাকর্মীদের উদ্যত আচরণ, হামলা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সমাবেশ বন্ধ করে দেন প্রধান অতিথি স্থানীয় এমপি পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রুহেল।
জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে¨ বুধবার বিকালে উপজেলা সদরের মিরসরাই মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ওই সামাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মাহবুবুর রহমান রুহেল। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির মেঝ ছেলে। সভায় সভাপতি ছিলেন মিরসরাই উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোস্তফা মানিক।
সমাবেশের এক পর্যায়ে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে পাথর, লাঠি ও সমাবেশে থাকা চেয়ার দিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে মাইকে বারবার ঘোষণা দিয়েও পরিস্থিতি শান্ত করতে না পেরে প্রধান অতিথি নিজেই সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করেন। এ সময় পুরো উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামলায় মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মাইনুর ইসলাম রানাসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় দুটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলায় আহতদের মধে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মাইনুর ইসলাম রানা, মো. শাকিল, হারুন, জুয়েল, পিংকু, মিয়াখান, নজরুল, নুরুচ্ছাপা, হৃদয়, ইমন, নোমান, আমজাদ ও আবুল কালামের নাম জানা গেছে।
এদের মধ্যে কালামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
এই বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, যুবলীগের সমাবেশে দুপক্ষের মধ্যে স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে কিছু বিড়্গিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। বড় আকার ধারন করার আগে পুলিশ পুরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ এখনো পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেননি।
