আত্মার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কিত। বৈবাহিক সূত্রে কিংবা জন্মগতভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। আত্মীয়তার বন্ধন হায়াত ও রিজিক বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, যা হয়তো আমরা জানি না বা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিই না। আত্মীয়তার বন্ধন এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, কেউ যদি তার হায়াত ও রিজিক বৃদ্ধি করতে চায় তাহলে আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘যে লোক তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫৫৯)
আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার রিজিক বেড়ে যাক এবং তার হায়াত দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮/৪৯৮৬)।
পরকালীন জীবনের সুখ-শান্তির পেছনেও দুনিয়াবি আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কিত। দুনিয়ার জিন্দেগিতে যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অথচ আমাদের সমাজে সামান্য কথা-কাটাকাটি কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে তালাক দেয়। পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তা বলা বন্ধ করে দেয়। কারও মুখ কেউ না দেখার প্রতিজ্ঞা করে কিংবা নিকটাত্মীয় ও স্বজনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার মতো ঘৃণ্য কাজ করে বসে। এভাবে অনেকে জান্নাতের পথ বন্ধ করে দেয়। মুহাম্মদ ইবনে মুতঈম (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬২৮৯)
আল্লাহতায়ালার রহমত-বরকত পেতে হলে আত্মীয়তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গেও তার সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে যায়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রহমানের মূল। সুতরাং যে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, আমিও তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫৬৩)
আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী থাকলে তাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হয় না।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ : ৬৩)
