গরু চুরি মামলার সন্দিগ্ধ আসামিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে সোপর্দ না করা এবং হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আদালতের কাছে অভিযোগ করেন আশরাফুল ইসলাম (৪২) নামের এক আসামি। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে এসে নির্যাতন করে বাধ্য করা হয়েছে- আসামির এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান আদালত।
এতে ইবি থানায় করা ওই গরু চুরি মামলার সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারকে তদন্তসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক মো. মহসিন হাসান এই আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের শিকার আসামি আশরাফুল আদালতের কাছে দেয়া আরজিতে লিখেছেন, ‘গত ৮ নভেম্বর, ২০২০ গভীর রাতে আসামি সদর উপজেলার আব্দালপুর মাঠ পাড়ার বাসিন্দা মৃত নায়েব আলী মন্ডলের ছেলে আশরাফুলকে বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসে ইবি থানা-পুলিশ।
সেখানে একটি কক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে এবং চোখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন। লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গিরায় গিরায় পিটুনি দেয়।
এতে শারীরিকভাবে বিভিন্ন অঙ্গ নীলাফোলা হয়ে গুরুতর জখম অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পুলিশের শেখানো কথা আদালতে স্বীকার করতে চাপ দেয়।
এই অবস্থায় ৩৬ ঘণ্টা পর গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা’।
এ সময় আসামির দেয়া জবানবন্দির সঙ্গে শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে আদালত তাৎক্ষণিক আসামির শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষা করতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া ডাক্তারি সনদে আসামিকে শারীরিক নির্যাতনের সত্যতা নিশ্চিত হন আদালত।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, ‘বুধবার দুপুরে আশরাফুলের (৪২) ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের নীলাফোলা জখম এবং হাঁটু গোড়ালির সংযোগস্থলে আঘাত আছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইবি থানার উপ-পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার হেফাজতে কোনো আসামিকে নির্যাতন করা হয়নি। আসামি আশরাফুলের ডাক্তারি পরীক্ষায় যদি নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পায় তাহলে আমি অভিযোগ মাথা পেতে নেবো।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত মুঠোফোনে বলেন, এ সংক্রান্ত আদালতের কোনো নির্দেশনা আমার কাছে আসেনি। নির্দেশনা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
