পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেছেন, ‘নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দুঃখজনক হলো গরীব মানুষদের উচ্ছেদে সমস্যা হয় না, সমস্যা হয় বিত্তশালীদের ক্ষেত্রে। তারা লিজ নিয়েই বাড়ি তৈরি করে ফেলে। তাই আমি দায়িত্ব নেয়ার পর লিজ দেওয়া বন্ধ করেছি। আমি কোনো জমি লিজ দিই না। শুধু কৃষি ও মৎস উৎপাদন ছাড়া অন্য কাজে লিজ দেওয়া হবে না।’
বুধবার সকালে নোঙর আয়োজিত ‘নদী রক্ষায় প্রয়োজন সঠিক নিয়মে নদী খনন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।
নদীভাঙ্গন প্রসঙ্গে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক আরও বলেন, ‘আমি নদীভাঙ্গন এলাকার লোক। তাই নদীভাঙ্গন এলাকার মানুষের কষ্ট আমি জানি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আমাদের কষ্ট অনুভব করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নদী শাসনের জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর প্রশস্ততা কমিয়ে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। নদীর দু’পাড়ে জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। আমি মনে করি, কৃষিজমি রক্ষায় এখনি ক্লাস্টার ভিলেজ নির্মাণে সরকারের কাজ করা উচিত’।
নদী সুরক্ষায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি প্রায় তিন শ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং সবজায়গায় স্থানীয়দের বলেছি আপনারা অবৈধভাবে কাউকে বালু উত্তোলন করতে দেবেন না। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিবেন। যেনতেনভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সব জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সুমন শামসের সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ এম আমিনুল হক, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস, আই ডব্লিউ এম-এর সিনিয়র মোরফোলজিস্ট আব্দুস সালাম শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
