জয়পুরহাটের কালাইয়ে শামছদ্দিন হত্যা মামলায় জামিনের পর নিহতের বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে কালাই উপজেলা মাত্রাই কুসুমসারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাবুদের বাবা শামছদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ হত্যায় স্থানীয় ১৩ জনের নামে আসামি ও অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে কালাই থানায় মামলা করা হয়। মামলার কয়েক মাস পর আসামিরা বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্তি পায়। তারপর থেকে নিহতের পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল ওই মামলার আসামিরা।
এরই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের দরজায় শিকল দিয়ে জানালা ভেঙে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়।
এতে দুটি ঘরের আসবাবপত্রসহ সব পুড়ে যায়। তাৎক্ষণিক পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নেভানো হয়।
নিহত শামছদ্দিনের বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাড়িতে যখন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। তখন আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আমাদের নিরাপত্তা নেই, আমার বাবাকে হত্যা করেছে, এখন আমাদেরকেও বিভিন্নভাবে ক্ষতি ও হত্যার চেষ্টা করছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।’
নিহত শামছদ্দিন হত্যার মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে আমরা জড়িত নয়, সত্য নয়। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে কিছু করার নেই। আমরা আইনে মোকাবিলা করবো।’
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান মন্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাবুদের বাবা শামছদ্দিনকে হত্যার পর আসামিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্য নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এরই জের ধরে পুরো পরিবারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে আমাদের ধারণা। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।’
এ ব্যাপারে কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাত্রাই এলাকায় একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এখনো আসেনি, অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
