স্কুলছাত্রকে মারধরের ঘটনায় অভিভাবকদের সতর্ক করে ৪ কিশোরের জামিন

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৯ পিএম

কুষ্টিয়ায় ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কয়েকজন কিশোর মিলে মারধরের ভিডিও ভাইরালের পর কুষ্টিয়া মডেল থানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার ৪ কিশোরকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী জামিন শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত গ্রেপ্তার কিশোরদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার শর্তে এই জামিনাদেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন কোর্ট জিআরও উপ-পুলিশ পরিদর্শক নকিব উদ্দিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে মারধরের একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কুষ্টিয়া শহরের খোদাদাদ খান সড়ক থানাপাড়ার বাসিন্দা শামসুর রহমান তার ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে মারধর, হত্যার হুমকি ও হত্যা চেষ্টা অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।

এজাহারভুক্ত তিন কিশোর হলেন- কুষ্টিয়া কলকাকলী, লরিয়েটস ইন্টা: ও দিনমনি হাই স্কুলের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন শিক্ষার্থী।

এতে শহরের সচেতন মহল চরম উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, সব সময় সবক্ষেত্রে আইন দিয়ে সবকিছু হয় না। কোমলমতি এসব বাচ্চাদের যতদিন পর্যন্ত নিজের ভালো-মন্দের জীবনবোধ গড়ে না উঠবে ততদিন পর্যন্ত এদের সকল দায়-ই কার্যত অভিভাবকদের উপর বর্তাবে বলে জানান। সন্তান জন্ম দেয়ার পর তাকে ভালো সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার দায় নিতে হবে তাদের। নচেৎ এজাতীয় অপরাধের ক্রমবৃদ্ধি চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে।

কুষ্টিয়ায় শিশু অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বরত প্রবেশন অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলায় সংঘটিত অন্তত ৪০টি শিশু-কিশোর অপরাধের ঘটনায় জড়িত শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করছি। অপরাধ সংঘটনের পর শিশু সুরক্ষা আইনের বিধিমতে, অভিভাবকদের সাথে সমন্বিত উদ্যোগে প্রদত্ত নির্দেশিকার আলোকে তাদের আইনি সহায়তাসহ সব রকম নার্সিং করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, গত বৃহস্পতিবার শহরের হাউজিং এলাকার চাঁদাগাড়া মাঠে সংগঠিত কিশোর অপরাধের অভিযোগে করা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ কিশোরসহ ৪ কিশোরকে শুক্রবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে জেলা ও দায়রা জজ তাদের জামিন দিয়েছেন।

তবে এ সময় অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আদালতের দেয়া সতর্কতার শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের পিতা-মাতা বা অভিভাবকরা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, তাদের কিশোর বয়সী শিশুরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এবং মোবাইলে কি করছে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত